খেলার মঞ্চেই আত্মবিশ্বাস, আত্মরক্ষার কৌশল আর এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। শনিবার কালনার পুরনো বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এমনই ছবি দেখা গেল ‘অস্মিতা খেলো ইন্ডিয়া উশু লিগ ২০২৬’-কে ঘিরে। পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ২২০ জন মহিলা প্রতিযোগী অংশ নেন এই উশু লিগে। তাঁদের দক্ষতা ও লড়াইয়ের মানসিকতা ঘিরে সকাল থেকেই জমে ওঠে প্রতিযোগিতার পরিবেশ।
প্রায় ২২০ মহিলা প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ
কালনায় আয়োজিত এই উশু লিগে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মহিলা খেলোয়াড়রা অংশ নেন। সংখ্যাটা ছিল প্রায় ২২০। ফলে সকাল থেকেই ইন্ডোর স্টেডিয়াম কার্যত মহিলা খেলোয়াড়দের দখলে চলে যায়।কেউ আত্মরক্ষার কৌশল আরও নিখুঁত করতে, আবার কেউ প্রতিযোগিতামূলক উশুতে নিজের জায়গা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে এই মঞ্চে নামেন।
তিনটি বিভাগে লড়াই
প্রতিযোগিতাটি সাব-জুনিয়র, জুনিয়র এবং সিনিয়র—এই তিনটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। বয়স ও বিভাগ অনুযায়ী প্রতিযোগীরা নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা, গতি এবং উশুর বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করেন।শুধু পদক জেতাই নয়, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মহিলা খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও নিয়মিত খেলাধুলার আগ্রহ বাড়ানোও ছিল অন্যতম লক্ষ্য।
আত্মরক্ষার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে খেলার ভবিষ্যৎ
উশু অনেকের কাছে আত্মরক্ষার একটি কার্যকর মাধ্যম হলেও এই প্রতিযোগিতা সেই ধারণাকে আরও বিস্তৃত করেছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মেয়েরা যেমন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল শিখতে পারেন, তেমনই নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ক্রীড়াক্ষেত্রেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ রয়েছে।আয়োজকদের মতে, জেলার মহিলা খেলোয়াড়দের সামনে উশুকে ভবিষ্যতের একটি সম্ভাবনাময় ক্রীড়াক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরাই এই ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
রাজ্য থেকে জাতীয় স্তরে যাওয়ার সুযোগ
প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করা খেলোয়াড়দের জন্য রয়েছে আরও বড় মঞ্চে যাওয়ার সম্ভাবনা। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীরা পরবর্তী পর্যায়ে রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে।এরপর রাজ্যস্তর পেরিয়ে জোনাল এবং জাতীয় স্তরেও যাওয়ার পথ খুলতে পারে। ফলে কালনার এই প্রতিযোগিতা অনেক মহিলা খেলোয়াড়ের কাছে ভবিষ্যতের বড় সুযোগেরপ্রথম ধাপ হয়ে উঠতে পারে।
উপস্থিত ছিলেন উশু সংগঠনের বিশিষ্টরা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উশু ওয়েস্ট বেঙ্গলের সেক্রেটারি শম্ভু শেঠ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা উশু সেক্রেটারি নারায়ণ দাস, সমাজকর্মী মৌসুমী মণ্ডল-সহ আরও অনেকে।বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি প্রতিযোগীদের উৎসাহ বাড়ায়। সকাল থেকে একের পর এক ইভেন্ট ঘিরে ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
উশুকে পেশা হিসেবেও বেছে নেওয়ার সুযোগ
পূর্ব বর্ধমান জেলা উশু সেক্রেটারি নয়ন দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, উশুর মাধ্যমে মহিলারা আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ পাওয়ার পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রে নিজেদের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারেন।খেলায় সাফল্য পেলে ক্রীড়াক্ষেত্রের বিভিন্ন সুযোগের পাশাপাশি সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তাই মেয়েদের খেলাধুলায় আরও বেশি করে যুক্ত করতে এই ধরনের প্রতিযোগিতার গুরুত্ব রয়েছে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
পূর্ব বর্ধমানের কালনায় অনুষ্ঠিত হল ‘অস্মিতা খেলো ইন্ডিয়া উশু লিগ ২০২৬’। ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২২০ জন মহিলা অংশ নেন। সাব-জুনিয়র, জুনিয়র ও সিনিয়র বিভাগে প্রতিযোগীরা নিজেদের উশু দক্ষতা তুলে ধরেন। আত্মরক্ষার পাশাপাশি খেলাকে ভবিষ্যতের পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয় এই আয়োজনে।












