ত্রাণে মিলেছিল চাল-ডাল, কিন্তু জ্বলছিল না উনুন! অসমে ৯০টি গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়ে নজির গড়লেন সেনা জওয়ান ও তাঁর স্ত্রী

অসমের বন্যায় রান্নার ব্যবস্থা হারানো পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ালেন ভারতীয় সেনা জওয়ান শক্তি পাল ও তাঁর স্ত্রী গীতিকা। ৯০টি গ্যাস সিলিন্ডার, বার্নার ও জরুরি সামগ্রী বিতরণ করে নজির গড়লেন তাঁরা।

বন্যার পর ত্রাণ পৌঁছেছিল, কিন্তু জ্বলেনি উনুন। চাল-ডাল, ওষুধ, পোশাক সবই ছিল, অথচ রান্না করার কোনও ব্যবস্থা ছিল না। এই সংকটের কথা জানতে পেরেই আর দেরি করেননি শিলিগুড়ির বাসিন্দা ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ান শক্তি পাল। স্ত্রী গীতিকা পালকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ছুটে যান অসমের বন্যাকবলিত এলাকায়। খাদ্যসামগ্রী নয়, মানুষের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন—রান্নার ব্যবস্থা—করতেই তাঁরা তুলে দেন ৯০টি গ্যাস সিলিন্ডার ও গ্যাস বার্নার।

ত্রাণের থেকেও বড় সমস্যা ছিল রান্নার ব্যবস্থা

প্রথম দফায় দুর্গতদের হাতে খাদ্যসামগ্রী, পানীয় জল, ওষুধ, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ত্রাণ বিলির পর দেখা যায়, অধিকাংশ পরিবারের রান্নার চুলা ও জ্বালানির ব্যবস্থা বন্যায় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খাবার থাকলেও তা রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।এই বাস্তব পরিস্থিতিই দ্বিতীয় পর্যায়ের ত্রাণ অভিযানের মূল লক্ষ্য বদলে দেয়।

৯০টি গ্যাস সিলিন্ডার ও বার্নার পেল বন্যাদুর্গত পরিবার

শিবসাগর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের নিমাইজান, নাজিরা এবং লিগরিপুকুরি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে ৯০টি গ্যাস সিলিন্ডার ও গ্যাস বার্নার তুলে দেন শক্তি পাল ও গীতিকা পাল।

এর পাশাপাশি বিতরণ করা হয়—

নতুন পোশাক

হাওয়াই চটি

বাসনপত্র

অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী

এই সহায়তা পেয়ে বহু পরিবার দীর্ঘদিন পর স্বাভাবিকভাবে রান্না করার সুযোগ পায়।

বাস্তব প্রয়োজন বুঝেই মানবিক উদ্যোগ

শক্তি পাল ও গীতিকা পাল 'ইউনিক ফাউন্ডেশন' নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। তবে তাঁদের মতে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুর্গত মানুষের প্রকৃত চাহিদা পূরণ করা।শুধু ত্রাণ বিলি নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বড় যে সমস্যাগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলির সমাধান করতেই তাঁরা এই বিশেষ উদ্যোগ নেন।

উত্তরবঙ্গের মানুষও এগিয়ে এলেন

এই মানবিক অভিযানে উত্তরবঙ্গের বহু মানুষও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। কেউ আর্থিক সাহায্য করেছেন, আবার কেউ ত্রাণসামগ্রী দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

সম্মিলিত এই উদ্যোগের ফলে বহু বন্যাদুর্গত পরিবার নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা দেখতে শুরু করেছে।

অসমের ভয়াবহ বন্যায় বহু পরিবারের ঘরবাড়ির সঙ্গে ভেসে গিয়েছিল রান্নার চুলাও। ত্রাণে খাদ্যসামগ্রী পেলেও রান্নার উপায় ছিল না। সেই বাস্তব সমস্যার সমাধানে শিলিগুড়ি থেকে অসমে পৌঁছে ৯০টি গ্যাস সিলিন্ডার ও বার্নার বিতরণ করলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ান শক্তি পাল এবং তাঁর স্ত্রী গীতিকা পাল। তাঁদের এই মানবিক উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে বহু বন্যাদুর্গত পরিবারের জীবনে।

Leave a comment