বর্ষা মানেই গাছের জন্য আশীর্বাদ, আবার একই সঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জও। একটানা বৃষ্টিতে টবের মাটিতে জল জমে গেলে শিকড় পচে যেতে পারে, বাড়তে পারে ছত্রাকের সংক্রমণ। তাই এই সময় শুধু জল দিলেই হবে না, গাছের সঠিক পরিচর্যা ও পুষ্টির দিকেও নজর রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান টবের মাটিতে মিশিয়ে দিলে গাছের বৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো বাড়ে এবং ফুল-ফলের ফলনও উন্নত হয়।
বর্ষায় গাছের জন্য কেন জরুরি অতিরিক্ত যত্ন?
বর্ষাকালে মাটিতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা তৈরি হয়। এর ফলে শিকড়ে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং দ্রুত ছত্রাকের আক্রমণ হয়। তাই প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে টবের জল বেরোনোর ছিদ্রগুলি খোলা রয়েছে এবং কোথাও জল জমে থাকছে না।
টবের মাটিতে মিশিয়ে দিন এই ৪ উপাদান
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার সময়ে রাসায়নিক সার সহজেই ধুয়ে যেতে পারে। তাই ব্যবহার করুন এই চারটি প্রাকৃতিক উপাদান—
হাড়ের গুঁড়ো (Bone Meal): ফসফরাসে সমৃদ্ধ হওয়ায় শিকড় শক্তিশালী করে এবং ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।
শিং কুচি (Horn Meal): ধীরে ধীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে, ফলে গাছের বৃদ্ধি দীর্ঘসময় ধরে ভালো থাকে।
নিমখোল: প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে কাজ করে এবং মাটিকে স্বাস্থ্যকর রাখে।
গুঁড়ো জৈব সার: মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং গাছকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়।
মাটি আলগা রাখুন, বাড়বে শিকড়ের বৃদ্ধি
টবের উপরিভাগের মাটি মাঝে মাঝে আলগা করে দিলে বাতাস সহজে প্রবেশ করতে পারে। এতে শিকড় সুস্থ থাকে এবং গাছ দ্রুত বাড়ে। একই সঙ্গে হলুদ, শুকনো বা রোগাক্রান্ত পাতা-ডাল কেটে ফেললে গাছে আলো-বাতাস ভালোভাবে পৌঁছায়।
বর্ষায় জল দেওয়ার আগে যা অবশ্যই করবেন
বৃষ্টি হলেও প্রতিবার জল দেওয়ার আগে হাত দিয়ে মাটি পরীক্ষা করুন। মাটি যদি ভেজা থাকে, তাহলে অতিরিক্ত জল দেবেন না। যেসব গাছ অতিরিক্ত জল সহ্য করতে পারে না, সেগুলিকে প্রয়োজনে শেডের নিচে সরিয়ে রাখুন।
ছত্রাক ও আগাছা নিয়ন্ত্রণেও নজর দিন
আর্দ্র আবহাওয়ায় ফাঙ্গাস দ্রুত ছড়ায়। তাই ৭–১০ দিন অন্তর উপযুক্ত ছত্রাকনাশক স্প্রে করা যেতে পারে। পাশাপাশি টবের আগাছা নিয়মিত তুলে ফেলুন, কারণ এগুলো গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও জল শুষে নেয়।
বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল, ফাঙ্গাস এবং শিকড় পচে যাওয়ার সমস্যা গাছের বৃদ্ধিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, টবের মাটিতে হাড়ের গুঁড়ো, শিং কুচি, নিমখোল ও জৈব সার মিশিয়ে দিলে গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, ফুল-ফলও বেশি আসে। পাশাপাশি ড্রেনেজ, আগাছা পরিষ্কার ও ছত্রাক প্রতিরোধেও নজর দিতে হবে।













