ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সর্দি-কাশি যেন অবধারিত। কিন্তু একই ভাইরাসে কেউ সামান্য অসুস্থ হন, আবার কারও ক্ষেত্রে তা প্রাণঘাতী শ্বাসকষ্টের রূপ নেয়। বিশেষ করে হাঁপানি (Asthma) ও COPD আক্রান্তদের জন্য এই ঝুঁকি বহুগুণ বেশি—এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা।
সমস্যার আসল কারণ কোথায়
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সাধারণ সর্দির জন্য দায়ী রাইনোভাইরাস প্রথমে নাকের কোষে আঘাত হানে। সুস্থ শরীরে এই কোষ দ্রুত ইমিউন সিস্টেমকে সতর্ক করে এবং ‘ইন্টারফেরন’ প্রতিরোধ তৈরি হয়, ফলে সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
কেন বেশি ঝুঁকিতে হাঁপানি ও COPD রোগীরা
যাঁদের হাঁপানি বা COPD রয়েছে, তাঁদের শ্বাসনালিতে আগে থেকেই প্রদাহ থাকে। এই প্রদাহের কারণে শরীরের সতর্কবার্তা পাঠানোর প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, ফলে ভাইরাস সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।
কী কী জটিলতা দেখা দিতে পারে
এই পরিস্থিতিতে—
শরীর সময়মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না
ভাইরাস দ্রুত বিস্তার লাভ করে
তীব্র শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির অ্যাটাক হতে পারে
গবেষণায় কীভাবে মিলল এই তথ্য
গবেষকরা ল্যাবে নাকের কোষের মতো ‘অর্গানয়েড’ তৈরি করে পরীক্ষা চালান। এতে দেখা যায়, সুস্থ অবস্থায় মাত্র ২% কোষ আক্রান্ত হয়, কারণ দ্রুত ইমিউন প্রতিক্রিয়া ভাইরাসকে আটকে দেয়।
কী শেখাল এই গবেষণা
এই গবেষণার মূল বার্তা—
সর্দির তীব্রতা ভাইরাসের চেয়ে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে
নাকের কোষের প্রাথমিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে থাকলে গুরুতর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
হাঁপানি বা COPD থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন
আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় মাস্ক ব্যবহার করুন
হাত পরিষ্কার রাখুন এবং সংক্রমণ এড়িয়ে চলুন
হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা কাশি বাড়লে দ্রুত চিকিৎসা নিন
সাধারণ সর্দি অনেকের জন্য হালকা হলেও হাঁপানি ও COPD রোগীদের ক্ষেত্রে তা মারাত্মক শ্বাসকষ্ট ডেকে আনতে পারে। নতুন গবেষণায় জানা গিয়েছে, ভাইরাস নয়—বরং শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়াই এই পার্থক্যের মূল কারণ।













