গাজিয়াবাদে অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর দাবি, শ্রী রাম মন্দিরের সব কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক

গাজিয়াবাদে এক অনুষ্ঠানে অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী শ্রী রাম মন্দির-সংক্রান্ত সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর জোর দেন। তিনি গোবংশ সংরক্ষণ, গোমাতাকে জাতীয় মাতা ঘোষণার দাবি এবং ধর্মাচার্যদের দিকনির্দেশনার গুরুত্ব সম্পর্কেও বক্তব্য রাখেন।

জগদ্গুরু অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী গাজিয়াবাদে এক অনুষ্ঠানে বলেন, শ্রী রাম মন্দির কোটি কোটি ভক্তের আস্থার কেন্দ্র এবং মন্দির-সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রমে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি ধর্মাচার্যদের দিকনির্দেশনার গুরুত্ব, গো-সংরক্ষণ এবং সনাতন মূল্যবোধ সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

বর্তমানে অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় ‘গবিশ্টি গো রক্ষার্থ ধর্মযুদ্ধ যাত্রা’ পরিচালনা করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি গাজিয়াবাদে পৌঁছান, যেখানে কবিনগরের ‘আপকা ভবন’-এ তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে শিব শক্তিধাম দাসনার পীঠাধীশ্বর যতি নরসিংহানন্দ সরস্বতীও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী বলেন, শ্রী রাম মন্দির কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। তাই মন্দির-সংক্রান্ত সমস্ত কাজ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া উচিত, যাতে ভক্তদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়।

গাজিয়াবাদে অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর দাবি, শ্রী রাম মন্দিরের সব কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক

তিনি বলেন, ধর্মাচার্যরা সমাজকে সঠিক দিশা দেখানোর কাজ করেন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সমাজে শুধুমাত্র ধর্ম নিয়ে আলোচনা করাই যথেষ্ট নয়, ধর্মাচার্যদের পরামর্শ ও নির্দেশনাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থানের পরিচালনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অপরিহার্য। এর মাধ্যমে শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা সুসংহত হয় না, সমাজের আস্থাও বৃদ্ধি পায়। শ্রী রাম মন্দির-সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে সততা ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

নিজের যাত্রার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী বলেন, দেশে গোবংশের সংরক্ষণ ও উন্নয়ন সময়ের দাবি। ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে গরুর বিশেষ স্থান রয়েছে, তাই এর সুরক্ষায় ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

তিনি পুনরায় গোমাতাকে জাতীয় মাতা ঘোষণা করার দাবি জানান এবং বলেন, এ বিষয়ে সরকারের উচিত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তাঁর মতে, গো-সংরক্ষণ শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দায়িত্বও।

অনুষ্ঠানে যতি নরসিংহানন্দ সরস্বতীও বক্তব্য রাখেন। তিনি শ্রী রাম মন্দির ট্রাস্ট-সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বচ্ছ তদন্ত ও যথাযথ পদক্ষেপের দাবি জানান। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী জানান, তাঁর ধর্মযুদ্ধ যাত্রার উদ্দেশ্য মানুষকে গো-সংরক্ষণ, সনাতন ধর্মের মূল্যবোধ এবং সামাজিক সচেতনতা সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করা। তিনি বলেন, আগামী কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন জেলায় ধর্মসভা আয়োজন করা হবে, যেখানে ধর্ম, সংস্কৃতি এবং সমাজকল্যাণ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

 

Leave a comment