পশুরাও ছোঁয় না ‘বাবাই’ গাছ! অথচ বীজ বিক্রি কেজি ২০০ টাকা—উপকারিতা জানলে চমকে যাবেন

ছত্রপুরের গ্রামাঞ্চলে জন্মানো বাবাই গাছের বীজ কেজিপ্রতি ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়। ঔষধি তেল তৈরিতে ব্যবহৃত এই গাছ কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের উৎস। জানুন উপকারিতা ও ব্যবহার।

মাঠের ধারে জন্মানো এক ‘অযত্নের’ গাছ—যাকে অনেকেই আগাছা বলে ভুল করেন। পশুরাও মুখ ফেরায়। অথচ সেই গাছই এখন গ্রামীণ অর্থনীতির ছোট কিন্তু নিশ্চিত ভরসা। ‘বাবাই’ নামে পরিচিত এই উদ্ভিদ শুধু আয়ের উৎসই নয়, গ্রামীণ ঘরোয়া চিকিৎসাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পশুরাও ছোঁয় না ‘বাবাই’ গাছ! অথচ বীজ বিক্রি কেজি ২০০ টাকা—উপকারিতা জানলে চমকে যাবেন
আগাছা নয়, আয়ের ভরসা

ছত্রপুর জেলার বিভিন্ন গ্রামে বর্ষা ও শীতকালে নিজে নিজেই জন্মায় বাবাই গাছ। সাধারণত মাঠের ধারে বা পতিত জমিতে এটি বেশি দেখা যায়। পশুরা এই গাছ খায় না, ফলে এটি অক্ষতই থেকে যায়। অনেকেই একে আগাছা ভাবলেও স্থানীয় কৃষকরা জানেন—এ গাছের অর্থনৈতিক মূল্য কম নয়।

বীজেই লুকিয়ে ‘সোনার খনি’

গ্রামের কৃষক প্রেমচাঁদ গিরির কথায়, বাবাই গাছের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ তার বীজ। গাছ কেটে ছাদে বা গোলাঘরে শুকিয়ে নেওয়ার পর বীজ আলাদা করা হয়। এই বীজ থেকেই তৈরি হয় ঔষধি তেল। বাজারে এর দাম কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। ফলে জমিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জন্মানো এই গাছ কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত উপার্জনের পথ খুলে দেয়।

পশুরাও ছোঁয় না ‘বাবাই’ গাছ! অথচ বীজ বিক্রি কেজি ২০০ টাকা—উপকারিতা জানলে চমকে যাবেন
ব্যথা ও হাড়ের সমস্যায় ব্যবহৃত তেল

বাবাই বীজ থেকে তৈরি তেল বিভিন্ন ধরনের ব্যথানাশক তেল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। হাঁটু ব্যথা, বাতের সমস্যা, হাড়ের যন্ত্রণা—এসব ক্ষেত্রে গ্রামীণ ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এই তেলের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। স্থানীয় বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে যথেষ্ট।

চোখের সমস্যায় ঘরোয়া টোটকা

গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, চোখ লাল হওয়া বা চুলকানির মতো সমস্যায় বাবাই পাতার রস উপকারী। বহু বছর ধরে এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি গ্রামে প্রচলিত। যদিও চিকিৎসকরা গুরুতর সমস্যায় অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেন, তবুও গ্রামীণ জীবনে এই গাছের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

পশুরাও ছোঁয় না ‘বাবাই’ গাছ! অথচ বীজ বিক্রি কেজি ২০০ টাকা—উপকারিতা জানলে চমকে যাবেন
উৎসবেও রয়েছে ব্যবহার

দীপাবলির সময় এই গাছের ব্যবহার দেখা যায় কিছু এলাকায়। এর বিশেষ গন্ধকে শুভ মনে করা হয়। ফলে অর্থনৈতিক ও ঔষধি গুরুত্বের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও বাবাইয়ের উপস্থিতি লক্ষণীয়।

কেন নিরাপদ থাকে গাছটি?

এই উদ্ভিদের একটি বড় বৈশিষ্ট্য—পশুরা একে স্পর্শ করে না। ফলে মাঠের ধারে এটি নিরাপদে বেড়ে ওঠে। বর্ষাকালে স্বাভাবিকভাবেই জন্মালেও বীজ সহজে ঝরে পড়ে না, তাই কৃষকরা সময়মতো সংগ্রহ করে বিক্রি করতে পারেন।

পশুরাও ছোঁয় না ‘বাবাই’ গাছ! অথচ বীজ বিক্রি কেজি ২০০ টাকা—উপকারিতা জানলে চমকে যাবেন
Chhatarpur district-এর গ্রামাঞ্চলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জন্মানো ‘বাবাই’ নামের এক গাছ আজ কৃষকদের বাড়তি আয়ের উৎস। এর বীজ থেকে তৈরি হয় ঔষধি তেল, যা হাঁটু ব্যথা, বাত ও হাড়ের সমস্যায় ব্যবহৃত হয়। বাজারে প্রতি কেজি বীজের দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

Leave a comment