Bangladesh Violence: ‘ওপারে হারমোনিয়াম ভাঙলে, তার শব্দ কলকাতাতেও এসে লাগে’—বাংলাদেশের অশান্তিতে ব্যথিত এপার-বাংলার শিল্পীমহল

Bangladesh Violence: ওসমান হাদির মৃত্যুর পর উত্তাল বাংলাদেশ। ছায়ানটে ভাঙচুর ও আগুনে ক্ষুব্ধ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, চন্দন সেন, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়রা।

Bangladesh Violence: ওপার-বাংলায় ফের অশান্তির আগুন। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর পর উত্তাল বাংলাদেশ। বিক্ষোভের জেরে আক্রান্ত হয়েছে সে দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘ছায়ানট’। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ আর ছড়িয়ে থাকা ভাঙা হারমোনিয়াম-তবলার ছবি নাড়িয়ে দিয়েছে এপার-বাংলাকেও। দুই বাংলার সাংস্কৃতিক বন্ধনে বিশ্বাসী শিল্পীরা একবাক্যে বলছেন—এই যন্ত্রভাঙার শব্দ কেবল ঢাকায় নয়, কলকাতাতেও এসে লাগে।

Bangladesh Violence: ‘ওপারে হারমোনিয়াম ভাঙলে, তার শব্দ কলকাতাতেও এসে লাগে’—বাংলাদেশের অশান্তিতে ব্যথিত এপার-বাংলার শিল্পীমহল

ছায়ানটে হামলা, স্তব্ধ সাংস্কৃতিক পরিসর

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী সনজীদা খাতুনের প্রাণের প্রতিষ্ঠান ‘ছায়ানট’-এ হামলা চালানো হয়। বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেয় ভবনের একাংশে। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসস্তূপের ছবি—ভাঙা হারমোনিয়াম, ছিন্ন তবলা, পোড়া বাদ্যযন্ত্র। এই দৃশ্য ঘুম কেড়ে নেয় দুই বাংলার শিল্পীসমাজের।

চন্দন সেন: “সংস্কৃতির উপর আঘাত মানেই সভ্যতার উপর আঘাত”

অভিনেতা চন্দন সেন বলেন, “সংস্কৃতি মানুষকে ঠিক-ভুলের বোধ শেখায়। তাই প্রথম আক্রমণটা সবসময় সংস্কৃতির উপরেই আসে। বাংলাদেশে যখন ব্লগার অভিজিৎ রায়কে খুন করা হয়েছিল, তখনই যদি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতো, আজ হয়তো এই দিন দেখতে হত না।” তাঁর মতে, এই নীরবতা ক্রমে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে।
Bangladesh Violence: ‘ওপারে হারমোনিয়াম ভাঙলে, তার শব্দ কলকাতাতেও এসে লাগে’—বাংলাদেশের অশান্তিতে ব্যথিত এপার-বাংলার শিল্পীমহলশীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়: ‘অরাজকতা মানা যায় না’

সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাংলাদেশের ঘটনা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। আমার আত্মীয়-পরিজন সেখানে রয়েছেন। ইউনুস প্রশাসনের সময়ে আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, অরাজক পরিস্থিতি চলছে। এটা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে শুভবুদ্ধির উদয় হোক, শান্তি ফিরুক।”

শিল্প-সংস্কৃতির উপর হামলা, আতঙ্কের ছবি

সঙ্গীতশিল্পী রাঘব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “শিল্প ও সংস্কৃতির উপর এমন হামলা শুধু দুঃখজনক নয়, ভয়ংকর। এই বাংলাদেশকে চিনতে পারছি না।” তাঁর মতে, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করলে সমাজের আত্মাটাই ক্ষতবিক্ষত হয়।

Bangladesh Violence: ‘ওপারে হারমোনিয়াম ভাঙলে, তার শব্দ কলকাতাতেও এসে লাগে’—বাংলাদেশের অশান্তিতে ব্যথিত এপার-বাংলার শিল্পীমহলদুই বাংলার অদৃশ্য বন্ধন

সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, এই অশান্তির পিছনে রাজনৈতিক কারণ স্পষ্ট। তিনি বলেন, “যারা দাঙ্গা করছে, তারা কারা? তাদের আমি চিনি না। দুই বাংলার মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক আছে। ওদেশে আমাদের বন্ধুরা রয়েছে—তারা কেমন আছে, সেটাই সবচেয়ে বড় চিন্তা।”

অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়: ‘ওপারের শব্দ এপারেও শোনা যায়’

সবচেয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেন সঙ্গীতশিল্পী অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশে বাদ্যযন্ত্র ভাঙা হচ্ছে—এটা ভীষণ বেদনাদায়ক। আমি রাজনীতি বিশ্লেষণ করার মানুষ নই, কিন্তু কষ্টটা গভীর। বাংলাদেশের সঙ্গে কলকাতার সাংস্কৃতিক যোগাযোগ খুব বড়। তাই ওপারে হারমোনিয়াম ভাঙলে, তার শব্দ কলকাতাতেও এসে লাগে।”

Bangladesh Violence: ‘ওপারে হারমোনিয়াম ভাঙলে, তার শব্দ কলকাতাতেও এসে লাগে’—বাংলাদেশের অশান্তিতে ব্যথিত এপার-বাংলার শিল্পীমহলবাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিংসা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন এপার-বাংলার বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও শিল্পীরা। ছায়ানটের মতো প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষুব্ধ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, চন্দন সেন, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়রা। তাঁদের মতে, সংস্কৃতির উপর আঘাত মানেই সমাজের মূল সত্তার উপর আঘাত।

Leave a comment