বিক্ষোভের চাপে ভোটার তালিকায় নাম তোলার সময় বাড়াল বার কাউন্সিল, কাঠগড়ায় বোর্ডের ভূমিকা

বিক্ষোভের চাপে ভোটার তালিকায় নাম তোলার সময় বাড়াল বার কাউন্সিল, কাঠগড়ায় বোর্ডের ভূমিকা

সাধারণ আইনজীবীদের টানা আন্দোলনের মুখে পিছু হটল রাজ্য বার কাউন্সিল। ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও সংশোধনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্তে আপাত স্বস্তি মিললেও, নির্বাচন পিছোনো ও তরুণ আইনজীবীদের ভোটাধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সময়সীমা বাড়ল, কী সুবিধা পাবেন আইনজীবীরা?

শনিবার বিকেলে বৈঠকে বসে রাজ্য বার কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেয়, ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও নামের বানান সংশোধনসহ যাবতীয় ত্রুটি ঠিক করার সুযোগ পাবেন আইনজীবীরা। কাউন্সিলের ওয়েবসাইটেও এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রফেশনাল সার্টিফিকেটে শর্ত

তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট সংক্রান্ত বিষয়ে শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যাঁরা ২০১০ সালের আগে এলএলবি পাশ করেছেন, কেবলমাত্র তাঁরাই সার্টিফিকেট ছাড়াই ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন। এই শর্ত ঘিরেই সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তরুণ আইনজীবীদের মধ্যে।

নির্বাচন পিছোবে? সুপ্রিম কোর্টে আবেদন

সময়সীমা বাড়ানোর ফলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ মার্চের মধ্যে বার কাউন্সিল নির্বাচন শেষ করা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন কাউন্সিলের সদস্যরা। তাই আগামী ৬ জানুয়ারি শীর্ষ আদালতে শুনানির সময় নির্বাচন পিছোনোর আবেদন জানানো হবে।

তরুণ আইনজীবীদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন

এই সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলেছেন একাধিক আইনজীবী নেতা। তাঁদের বক্তব্য, ২০১০–এর পর গত ১৫ বছরে আইন পাশ করা বহু আইনজীবী কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তৃণমূল লিগাল সেলের প্রাক্তন আহ্বায়ক তরুণ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য,“তরুণ আইনজীবীদের বাদ দিয়ে কোনও নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”

বার কাউন্সিল বোর্ড বনাম নিজেদের দল

২৫ সদস্যের রাজ্য বার কাউন্সিলে ১৫টি আসন তৃণমূলপন্থীদের দখলে থাকলেও, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ক্রমশ প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে নির্বাচনকে সামনে রেখে বোর্ডের সিদ্ধান্তে শাসকদলের সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যেই অসন্তোষ দানা বাঁধছে।

দ্বন্দ্ব নিরসনে সুব্রত বক্সীর বৈঠক

এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক ও অর্থমন্ত্রী তথা লিগাল সেলের চেয়ারপার্সন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। লিগাল সেলের নেতৃত্ব পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বার কাউন্সিল নির্বাচন— সবকিছু মিলিয়ে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আইনি মহলের একাংশ।

কোন্দলের পেছনের গল্প

মলয় ঘটককে সরিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই লিগাল সেলে মতবিরোধ বাড়ে। নতুন আহ্বায়ক নিয়োগ, পুরনো নেতাদের অপসারণ ও সাসপেনশন— সব মিলিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। এই আবহেই সুব্রত বক্সীর মধ্যস্থতায় সমাধানের চেষ্টা।

আইনজীবীদের লাগাতার ক্ষোভ ও বিক্ষোভের জেরে শেষ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম তোলার সময়সীমা বাড়াতে বাধ্য হল রাজ্য বার কাউন্সিল। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন সময়মতো হবে কি না, এবং বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও বাড়ছে অসন্তোষ।

Leave a comment