নতুন বছরের উদযাপনের ধোঁয়া কাটার পর কলকাতার বাতাসে সামান্য উন্নতির ছবি ধরা পড়েছে। তবে স্বস্তির জায়গা এখনও অনেক দূরে। ‘অতি খারাপ’ স্তর থেকে নেমে এলেও শহরের অধিকাংশ জায়গাতেই বাতাসের গুণগত মান এখনও ‘খারাপ’ বা Poor ক্যাটাগরিতেই আটকে রয়েছে। বিশেষ করে সকালের দিকে দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক বলেই জানাচ্ছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ।
সকালে কেন বেশি দূষণ?
দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পর্যবেক্ষণ বলছে, প্রতিদিন সকালের দিকেই বাতাসের গুণগত মান সবচেয়ে খারাপ থাকে। ঠান্ডা আবহাওয়া, কম বায়ুপ্রবাহ ও যানবাহনের ধোঁয়া মিলিয়ে সকালে দূষণের স্তর দ্রুত বাড়ে। বেলা যত গড়ায়, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
শনিবার সকাল ৯টার AQI রিপোর্ট
শনিবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী কলকাতার বিভিন্ন মনিটরিং স্টেশনে বাতাসের গুণগত মান ছিল—
বালিগঞ্জ: ২০২
বিধাননগর: ১৬৭
ফোর্ট উইলিয়াম: ১৭৬
যাদবপুর: ২৬০
রবীন্দ্রভারতী: ২৪৩
রবীন্দ্র সরোবর: ১৩৫
ভিক্টোরিয়া: ২৪৪
এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, শহরের একাধিক এলাকায় বাতাস এখনও স্বাস্থ্যঝুঁকির পর্যায়ে রয়েছে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা— কতটা বদলায় পরিস্থিতি?
দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য বলছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু জায়গায় AQI কমছে।
শুক্রবার সকালে বালিগঞ্জে AQI ছিল ২২১, সন্ধ্যায় নেমে আসে ২১৩-এ।
ফোর্ট উইলিয়ামে সকালে AQI ২০৩ থাকলেও সন্ধ্যায় তা কমে হয় ১৭৯।
তবে সব জায়গায় ছবিটা একরকম নয়।
যাদবপুর-সল্টলেকের উদ্বেগ
শুক্রবার সকালে সল্টলেক ও যাদবপুরে AQI ছিল যথাক্রমে ৩০৩ ও ৩০৪— যা ‘অতি খারাপ’ স্তরের মধ্যে পড়ে। সন্ধ্যার দিকে কিছুটা উন্নতি হলেও যাদবপুরের বাতাস দীর্ঘ সময় ধরেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ভিক্টোরিয়া এলাকা কেন চিন্তার?
সবচেয়ে বেশি চিন্তা বাড়াচ্ছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সংলগ্ন অঞ্চল। পরিসংখ্যানে সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও বাস্তবে বাতাসের মানে বড় পরিবর্তন চোখে পড়ছে না। শুক্রবার সকালে ভিক্টোরিয়ার AQI ছিল ২৯০, সন্ধ্যায় তা কমে হয় ২৭০— যা বিশেষ স্বস্তির নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইংরেজি বছরের শুরুতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও এখনও দূষণের কবলেই কলকাতার বাতাস। অধিকাংশ মনিটরিং স্টেশনেই বাতাসের গুণগত মান ‘খারাপ’ স্তরে রয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, সকালে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামান্য উন্নতি দেখা যাচ্ছে।












