উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার বড়কোট এলাকার কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের ঘাটতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। গ্রামবাসী ও এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনুমোদিত চিকিৎসক পদের তুলনায় বছরের পর বছর অত্যন্ত কম চিকিৎসক দিয়ে বড়কোট সিএইচসিতে স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, ২০১৫ সাল থেকে আটটি চিকিৎসক পদের বিপরীতে মাত্র একজন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করেই স্বাস্থ্য পরিষেবা চলছে। সমস্যার সমাধানের দাবিতে স্থানীয়রা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন এবং দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ না হলে আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বড়কোট এলাকার জনসংখ্যার জন্য সিএইচসি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। আশপাশের গ্রামগুলি থেকে বহু রোগী চিকিৎসা, পরীক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সরাসরি সমস্যার মুখে পড়তে হয়। সাধারণ অসুস্থতা থেকে জরুরি পরিস্থিতি—সব ক্ষেত্রেই সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে রোগীদের। অনেক সময় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের দূরের হাসপাতালে যেতে হয়।
গ্রামবাসীদের অসন্তোষ শুধু চিকিৎসকের সংখ্যা নিয়ে নয়। তাঁদের বক্তব্য, পাহাড়ি এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রয়োজন সমতল এলাকার তুলনায় ভিন্ন। দূরবর্তী গ্রাম থেকে রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছতে সময় ও অর্থ দুটোই খরচ হয়। সিএইচসিতেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা থাকলে ছোটখাটো সমস্যার জন্যও মানুষকে অন্য শহর বা বড় হাসপাতালে যেতে হবে না।
স্থানীয়দের দাবি, ২০১৫ সাল থেকে চিকিৎসকের ঘাটতির সমস্যা রয়েছে। আটটি চিকিৎসক পদের বিপরীতে মাত্র একজন চিকিৎসক থাকার পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। এত দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য পদ পূরণের দাবি পূরণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
গ্রামবাসীরা সরকারের কাছে বড়কোট সিএইচসিতে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসক পদ দ্রুত পূরণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, পাহাড়ি ও দূরবর্তী এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা শক্তিশালী না করলে গ্রামবাসীদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়। স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি হাসপাতালের অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিষেবাও শক্তিশালী করার দাবি জানানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, বড়কোট এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবার ঘাটতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ওপর পড়ে। কোনও রোগীর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে অন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দূরত্ব ও রাস্তার অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাহাড়ি এলাকায় হাসপাতালে পৌঁছতে অতিরিক্ত সময় লাগায় রোগী ও তাঁর পরিবারের সামনে আরও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা, প্রবীণ, শিশু এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকা জরুরি বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের বক্তব্য, সিএইচসিতে চিকিৎসক নিয়মিত উপস্থিত থাকলে রোগীরা সময়মতো পরামর্শ ও চিকিৎসা পেতে পারেন। একই সঙ্গে গুরুতর পরিস্থিতিও দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজন হলে রোগীকে সময়মতো উচ্চতর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো যাবে।
উত্তরাখণ্ডের পার্বত্য এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবায় চিকিৎসকের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। কেন্দ্র সরকারের গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিসংখ্যানেও কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতিকে দেশজুড়ে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের সরকারি পরিসংখ্যানেও সিএইচসি স্তরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতির কথা উল্লেখ ছিল।
বড়কোটের বাসিন্দাদের বক্তব্য, বছরের পর বছর সমস্যা চলার পরও সমাধান না হলে তার সরাসরি প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। গ্রামবাসীদের কাছে সরকারি হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ প্রতিটি পরিবারের পক্ষে বহন করা সহজ নয়। এই পরিস্থিতিতে সরকারি সিএইচসিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসকের উপস্থিতি দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো স্মারকলিপির মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের দাবি সরকারের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এখন স্বাস্থ্য দফতর ও সরকার এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ হলে এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবার সমস্যার সমাধান হতে পারে। অন্যদিকে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের বক্তব্য, চিকিৎসক নিয়োগ শুধু কাগজে-কলমে নয়, হাসপাতালে তাঁদের বাস্তব উপস্থিতি নিশ্চিত করার মতো হওয়া উচিত। তাঁরা সিএইচসিতে চিকিৎসকদের নিয়মিত ডিউটি এবং রোগীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে অন্যত্র ঘোরাঘুরি করতে না হওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালে পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে।
বড়কোটের মতো পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা শক্তিশালী করার গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ আশপাশের বহু গ্রাম ভৌগোলিকভাবে দূরবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলে রয়েছে। বৃষ্টি, ভূমিধস এবং রাস্তা বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে রোগীদের বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এমন সময়ে স্থানীয় সিএইচসিই মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র হয়ে ওঠে।
আঞ্চলিক বাসিন্দাদের বক্তব্য, সিএইচসিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকলে বহু রোগীর চিকিৎসা স্থানীয় স্তরেই করা সম্ভব। এতে বড় হাসপাতালগুলির ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপও কমবে। গুরুতর রোগীদেরই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতাল বা উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর প্রয়োজন হবে। এর ফলে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সময় ও খরচ দুটোই কমতে পারে।
চিকিৎসকের ঘাটতির কারণে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়তে পারে। একজন চিকিৎসককে বেশি সংখ্যক রোগী দেখতে হলে প্রতিটি রোগীকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া কঠিন হতে পারে। দীর্ঘ সময়ের কাজের চাপ চিকিৎসা পরিষেবার মান এবং চিকিৎসকদের কর্মক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রোগীদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।
বড়কোট সিএইচসি নিয়ে ওঠা দাবি শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, পার্বত্য এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবার বৃহত্তর চ্যালেঞ্জের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। পাহাড়ে হাসপাতালের পরিকাঠামো থাকলেও পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ চিকিৎসক না থাকলে ভবন ও অন্যান্য সুবিধা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয় না। তাই স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর পাশাপাশি মানবসম্পদ শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
এই মুহূর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারকে তাঁদের দাবি জানিয়েছেন। এখন স্বাস্থ্য দফতর চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। দীর্ঘদিনের সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে আন্দোলনের পথে যাওয়ার কথা স্পষ্ট করেছেন তাঁরা।
বড়কোটের বাসিন্দাদের দাবি, সরকার যেন বিষয়টি শুধু স্মারকলিপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রাখে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। তাঁদের বক্তব্য, স্বাস্থ্য পরিষেবা যে কোনও এলাকার উন্নয়নের মৌলিক প্রয়োজন এবং পাহাড়ি অঞ্চলে এর ঘাটতির সরাসরি প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। আটটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে একজন চিকিৎসক থাকার বিষয়টি নিয়ে ওঠা দাবি এখন সরকারের কাছে পৌঁছেছে। আগামী দিনে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নজর রাখছেন এলাকার বাসিন্দারা।










