বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী ও আলোচিত ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৮৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। তাঁর প্রয়াণের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ এবং সংগ্রামপূর্ণ একটি যুগের অবসান হলো।
খaledা জিয়া: বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগের সমাপ্তি হলো। সংগ্রাম, ক্ষমতা এবং সাহসের প্রতীক रहीं বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৮৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। বিএনপি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে তাঁর প্রয়াণের খবর জানায়। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেত্রী দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন এবং অবশেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দীর্ঘ অসুস্থতার পর প্রয়াণ
খালেদা জিয়া গত ৩৬ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁকে ২৩ নভেম্বর হৃদরোগ ও ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার সময় তাঁর অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে, এবং ১১ ডিসেম্বর তাঁকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়াও, তিনি নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন, যা তাঁর পরিস্থিতি আরও গুরুতর করে তোলে।
চিকিৎসকদের মতে, খালেদা জিয়াকে নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিস করার প্রয়োজন ছিল। মেডিকেল বোর্ড তাঁর অবস্থাকে "অত্যন্ত সংকটজনক" বলে অভিহিত করেছিল এবং তাঁকে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে রাখা হয়েছিল। ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দিলে তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে।

বিএনপি-র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, মোনাজাতের আবেদন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ পোস্ট করে তাঁর প্রয়াণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“বিএনপি চেয়ারপারসন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকালে ফজর নামাজের পর ইন্তেকাল করেছেন। দল দেশবাসী ও সমর্থকদের তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করার অনুরোধ জানিয়েছে। তাঁর প্রয়াণের খবর বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই মাসের শুরুতে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে, তাঁর দুর্বল স্বাস্থ্যের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এর আগে তিনি লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিস, বাত এবং চোখের সমস্যা সহ বিভিন্ন গুরুতর রোগে ভুগছিলেন।
এ বছর ৬ মে খালেদা জিয়া প্রায় চার মাস উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের পর লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তবে, তাঁর স্বাস্থ্যের স্থায়ী উন্নতি হয়নি।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন শক্তিশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ছিলেন, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর স্বামী মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং এটিকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেন।
তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা করেন। তাঁর শাসনামলে তিনি গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং উন্নয়নকে প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সক্রিয় ছিল। বিএনপি ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেয়নি এবং তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে জাতীয়তাবাদকে বড় ইস্যু করে। এছাড়াও, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রস্তাবিত সাধারণ নির্বাচন নিয়ে দল ৩ ডিসেম্বর ২৩৭টি আসনে তাদের প্রার্থীদের ঘোষণা দিয়েছে।
খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর বিএনপি-র ভবিষ্যৎ এবং নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর সমর্থকদের জন্য এটি কেবল একজন নেতার প্রয়াণ নয়, বরং একটি আদর্শ এবং সংগ্রামের প্রতীকের বিদায়।












