বেগুসরাইয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে স্বাস্থ্যবিমার প্রলোভন দেখিয়ে সাইবার প্রতারণার চেষ্টা ব্যর্থ

বিহারের বেগুসরাইয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে স্বাস্থ্যবিমার প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবকের ব্যাংকিং তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। যুবকের সতর্কতায় প্রতারণার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পুলিশ ও সাইবার সেল অচেনা কল, ওটিপি এবং ব্যাংকিং তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে।
বেগুসরাইয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে স্বাস্থ্যবিমার প্রলোভন দেখিয়ে সাইবার প্রতারণার চেষ্টা ব্যর্থ
Photo Credit / Attribution: Google

বেগুসরাইয়ে সাইবার প্রতারকেরা আবারও সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। এবার এক যুবককে ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে স্বাস্থ্যবিমা পলিসির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। তবে যুবকের সতর্কতা ও বিচক্ষণতার কারণে বড় ধরনের সাইবার জালিয়াতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুবকের মোবাইলে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান যে, তাঁর নামে একটি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প সক্রিয় করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, পলিসির সুবিধা পেতে কিছু প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং সে জন্য ব্যাংক হিসাব যাচাই করা জরুরি।

কথোপকথনের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি যুবকের কাছ থেকে ব্যাংক হিসাব, ডেবিট কার্ড এবং মোবাইলে আসা ওটিপি (OTP)-এর তথ্য শেয়ার করার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। তিনি আরও বলেন, প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে হিসাব থেকে অতিরিক্ত চার্জ কেটে নেওয়া হতে পারে অথবা বিমা সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। প্রথমে বিষয়টি যুবকের কাছে স্বাভাবিক মনে হলেও, ফোনকারী ধারাবাহিকভাবে গোপন ব্যাংকিং তথ্য ও ওটিপি চাইতে শুরু করলে তাঁর সন্দেহ হয়।

এরপর যুবক কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দিতে অস্বীকার করে সঙ্গে সঙ্গে ফোন কেটে দেন। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সরকারি গ্রাহকসেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরো ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। ব্যাংক কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানান, ব্যাংক কখনও ফোনে গ্রাহকদের কাছ থেকে ওটিপি, কার্ড নম্বর, সিভিভি, ইউপিআই পিন বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং পাসওয়ার্ডের মতো গোপন তথ্য চায় না। এতে যুবক নিশ্চিত হন যে এটি সাইবার প্রতারণার চেষ্টা ছিল।

ঘটনার পর যুবক তাঁর পরিচিত ও পরিবারের সদস্যদেরও এ ধরনের ফোনকল সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। স্থানীয় পর্যায়েও ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা হয় এবং অনেকেই এটিকে সাইবার অপরাধীদের নতুন কৌশল বলে উল্লেখ করেন।

সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অপরাধীরা স্বাস্থ্যবিমা, কেওয়াইসি আপডেট, ক্রেডিট কার্ড রিওয়ার্ড, ব্যাংক হিসাব বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা, পেনশন, গ্যাস ভর্তুকি, বিদ্যুৎ বিল এবং সরকারি প্রকল্পের নামে ফোন করে প্রতারণার চেষ্টা করছে। তারা নিজেদের ব্যাংক কর্মী, বিমা সংস্থার কর্মকর্তা বা সরকারি বিভাগের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করে এবং পরে গোপন তথ্য সংগ্রহ করে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ তুলে নেয়।

পুলিশ ও সাইবার সেল সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে, কোনো অচেনা ফোনকলে ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার না করতে। যদি কেউ ফোন, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ বা ই-মেইলের মাধ্যমে ওটিপি, ইউপিআই পিন, কার্ড নম্বর, সিভিভি বা পাসওয়ার্ড চায়, তবে তাকে অবিলম্বে ব্লক করে সাইবার হেল্পলাইন ১৯৩০ অথবা জাতীয় সাইবার অপরাধ পোর্টালে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি সাইবার প্রতারণার শিকার হলে বিলম্ব না করে অভিযোগ দায়ের করা উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রে লেনদেন বন্ধ করে অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

Leave a comment