রাজধানী পাটনায় শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টির পর শহরের একাধিক এলাকায় জলজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিচু এলাকা, প্রধান সড়ক এবং বহু আবাসিক পাড়ায় পানি জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ আজও পাটনাসহ বিহারের একাধিক জেলায় প্রবল ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করেছে।
বৃষ্টির পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সকালে থেকেই নগর নিগমের কমিশনার বিভিন্ন সড়কে পরিদর্শনে যান। তিনি জলজটপূর্ণ এলাকাগুলি পরিদর্শন করে কর্মকর্তাদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের নির্দেশ দেন। নগর নিগমের কুইক রেসপন্স টিম (QRT), পাম্পিং সেট এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে পানি নিষ্কাশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বৃষ্টির কারণে শহরের একাধিক প্রধান সড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। জলজটের কারণে বহু স্থানে মোটরসাইকেল আরোহী ও পথচারীদের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। নর্দমা উপচে পড়া এবং পানি নিষ্কাশনের গতি ধীর হওয়ায় কিছু এলাকায় দীর্ঘ সময় পানি জমে ছিল।
নগর নিগমের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত পাম্প বসানো হয়েছে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। যেখানে জলজটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে দ্রুত দল পাঠানো হচ্ছে যাতে মানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধান করা যায়।
আবহাওয়া বিভাগের মতে, আজও পাটনা এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কিছু স্থানে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। খারাপ আবহাওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ির বাইরে না বের হওয়া, গাছ এবং দুর্বল বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকা এবং আবহাওয়া বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নগর নিগম, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের দলগুলিকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে এবং বৃষ্টির পরিস্থিতির ওপর ধারাবাহিকভাবে নজর রাখা হচ্ছে।
বর্তমানে নগর নিগমের দলগুলি জলজটপূর্ণ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, বৃষ্টি থামার পর অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে দ্রুত পানি সরিয়ে স্বাভাবিক জনজীবন পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা জোরদার করা হবে।











