সবুজের বুক চিরে, কুয়াশা ভেদ করে যে বিশাল দেহটা প্রতিদিন সকালে দেখা দিত, সে আর নেই। শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কের একমাত্র গন্ডার ‘ভীম’-এর মৃত্যুতে স্তব্ধ বনকর্মী থেকে পর্যটক—সবাই। যেন এক নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এসেছে পার্ক জুড়ে।

বন্য জীবন থেকে বন্দিজীবন—ভীমের গল্প যেন সিনেমার মতো
Baikunthapur Forest-এর স্বাধীন জঙ্গলেই শুরু ভীমের জীবন। কিন্তু সঙ্গীনী দখলকে কেন্দ্র করে অন্য গন্ডারের সঙ্গে সংঘর্ষে হারাতে হয় নিজের এলাকা। সেই হারই তাকে ঠেলে দেয় এক অজানা জীবনের দিকে।
সেবক থেকে সাফারি—নতুন জীবনের সূচনা
পথভ্রষ্ট অবস্থায় Sevoke অঞ্চলে পৌঁছলে বনদফতর তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে বেঙ্গল সাফারি পার্কে। প্রথমে নাম ছিল ‘কানহেলা’, পরে বদলে রাখা হয় ‘ভীম’—তার শক্তি ও উপস্থিতির সঙ্গে মানানসই এক নাম।

বন্দিজীবনের অস্বস্তি, তবু ধীরে ধীরে মানিয়ে নেওয়া
নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সময় লেগেছিল ভীমের। মাঝে মাঝে দেওয়াল ভেঙে পালানোর চেষ্টা করত—হয়তো ফিরে যেতে চাইত নিজের জঙ্গলে। সঙ্গীর খোঁজও চলেছিল, কিন্তু সেই অপেক্ষা অপূর্ণই থেকে যায়।
পর্যটকদের নয়নমণি, ‘রাইনো সাফারি’র আকর্ষণের কেন্দ্র
সময়ের সঙ্গে ভীম হয়ে ওঠে পার্কের প্রধান আকর্ষণ। দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা শুধু তাকে দেখার জন্যই সাফারিতে উঠতেন। তার জনপ্রিয়তার জেরেই চালু হয় আলাদা ‘রাইনো সাফারি’।

শেষ লড়াইয়ে হার, স্বাভাবিক মৃত্যুর কথা জানাল কর্তৃপক্ষ
বয়সজনিত সমস্যার কাছে শেষমেশ হার মানে ভীম। পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাভাবিক কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিয়ম মেনে ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে।
নিঃশব্দ শূন্যতা—আজ আর নেই সেই পরিচিত দৃশ্য
Siliguri-র ভোর আজ আর আগের মতো নয়। কুয়াশার ভেতর দিয়ে হাঁটা সেই বিশাল অবয়ব এখন স্মৃতির অংশ। ভীমের চলে যাওয়ায় শুধু একটি প্রাণীর মৃত্যু নয়, হারিয়ে গেল এক আবেগ, এক পরিচিত মুখ।

Indian Rhinoceros ‘ভীম’-এর মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া Bengal Safari Park-এ। স্বাভাবিক কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, তবে পর্যটকদের কাছে এটি এক বড় ক্ষতি।












