বিহারের মেগা জব ফেয়ারে ২০,২২৬ জন নির্বাচিত, দিল্লিতে চাকরি নিয়ে মহিলার অভিযোগ

আগস্ট ২০২৬-এ পাটনায় পাঁচ দিনের মেগা জব ফেয়ারে ১১৫টি সংস্থা অংশ নিয়ে ২০,২২৬ জন যুবক-যুবতীকে কর্মসংস্থানের জন্য নির্বাচিত করে। এই কর্মমেলার মাধ্যমে চাকরি পাওয়া এক মহিলার দিল্লিতে পাঠানোর পর আটকে রাখা ও জোরজবরদস্তির অভিযোগ উঠেছে, যার স্বাধীন নিশ্চিতকরণ এখনও পাওয়া যায়নি।
বিহারের মেগা জব ফেয়ারে ২০,২২৬ জন নির্বাচিত, দিল্লিতে চাকরি নিয়ে মহিলার অভিযোগ
Photo Credit / Attribution: Google

বিহারে যুবকদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে আয়োজিত মেগা জব ফেয়ারে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীকে নিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী নির্বাচিত যুবকদের হাতে নিয়োগপত্রও তুলে দেন। সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মমেলার উদ্দেশ্য ছিল বিহারের যুবকদের বেসরকারি সংস্থা এবং দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া।

উপলব্ধ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬-এ পাটনায় আয়োজিত পাঁচ দিনের মেগা জব ফেয়ারে ১১৫টি সংস্থা অংশ নিয়েছিল এবং ২০,২২৬ জন যুবক-যুবতীকে কর্মসংস্থানের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এর মধ্যে ৩,৯৪০ জনকে বিহারে এবং ৪৭৬ জনকে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল বলে জানানো হয়।

এই কর্মমেলার সঙ্গে যুক্ত এক মহিলার কথিত অভিজ্ঞতা এখন কর্মসংস্থানের সুযোগের নিরাপত্তা এবং বেসরকারি সংস্থাগুলির জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মহিলার অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার পর তাকে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সেখানে চাকরির সময় যে ধরনের কাজ ও পরিবেশের কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে তার সঙ্গে মিল ছিল না।

মহিলার দাবি, দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য ব্যক্তিদের সামনে হাজির করার চেষ্টা করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, ভিডিও কলের মাধ্যমে তাকে ছেলেদের দেখানো হতো এবং তার সঙ্গে জোরজবরদস্তি করা হতো।

তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে মহিলার বক্তব্যে ওঠা অভিযোগগুলি তদন্তের বিষয়। যে প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বক্তব্য এবং অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। উপলব্ধ নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনগুলিতে এখনও পুরো ঘটনার পর্যাপ্ত নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে কারণ অভিযোগকারী মহিলার দাবি, তিনি কর্মমেলার মাধ্যমে চাকরির সুযোগ পেয়েছিলেন। যুবকদের চাকরি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই কর্মমেলার আয়োজন করা হয়েছিল এবং সরকার এটিকে কর্মসংস্থান তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছিল। ফলে নির্বাচিত কোনও প্রার্থীর সঙ্গে চাকরির নামে প্রতারণা, জোরজবরদস্তি বা শোষণের অভিযোগ সত্য হলে তা কর্মসংস্থানের জন্য বাইরে যাওয়া যুবকদের নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত হবে।

আগস্টে পাটনায় আয়োজিত মেগা জব ফেয়ারের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী নির্বাচিত প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মেলায় বিপুল সংখ্যক বেসরকারি সংস্থা অংশ নিয়েছে এবং হাজার হাজার যুবককে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর পর মুখ্যমন্ত্রী পরের বছর থেকে বিহারের প্রতিটি জেলায় কর্মমেলা আয়োজনের ঘোষণা করেন, যাতে যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য বড় শহরগুলিতে যেতে কম হয়।

সরকারের কর্মসংস্থান কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল চাকরি পাওয়ার পর যুবকদের নিরাপদ ও স্বচ্ছ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। কোনও প্রার্থীকে কোন পদে নিয়োগ করা হচ্ছে, কর্মস্থল কোথায়, বেতন কত, থাকার ব্যবস্থা কী এবং কাজের ধরন কী—এই তথ্যগুলি প্রার্থীকে স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন। বিশেষ করে মহিলা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আবাসন, কর্মস্থল এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

অভিযোগকারী মহিলার বক্তব্যে ঘরে আটকে রাখা এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তিদের দেখানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। তদন্তে এই অভিযোগগুলি সত্য প্রমাণিত হলে বিষয়টি শুধু চাকরি-সংক্রান্ত বিরোধে সীমাবদ্ধ থাকবে না; মহিলার স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা সংক্রান্ত গুরুতর ফৌজদারি দিকও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন হবে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুলিশকে মহিলার বক্তব্য রেকর্ড করার পাশাপাশি তার মোবাইল ফোন, কলের তথ্য, ভিডিও কল-সংক্রান্ত ডিজিটাল প্রমাণ, যাতায়াত ও নিয়োগ-সংক্রান্ত নথি এবং যে স্থানে তাকে কথিতভাবে রাখা হয়েছিল, সেই স্থান সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করতে হতে পারে।

চাকরির সন্ধানে বিহার থেকে বিপুল সংখ্যক যুবক অন্য রাজ্য এবং বিদেশেও যান। সরকারের বর্তমান কর্মসংস্থান কর্মসূচিতেও অন্য রাজ্যের পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য নির্বাচিত যুবকদের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে নির্বাচনের পর প্রার্থীদের নিরাপত্তা এবং নিয়োগকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কোনও কর্মমেলায় কোনও সংস্থার স্টল থাকা বা কোনও প্রার্থী নির্বাচিত হওয়া পরবর্তী প্রতিটি প্রক্রিয়া নিরাপদ হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। নির্বাচনের পর সংস্থা এবং তার অনুমোদিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব বাড়ে। প্রার্থীদের নিয়োগপত্র, চাকরির স্থান, বেতন, কাজের ধরন এবং থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে লিখিত তথ্য দেওয়া প্রয়োজন। কোনও প্রার্থীকে চাকরির নামে অন্য কাজে নিয়োগ করা বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করানো হলে তা গুরুতর বিষয় হতে পারে।

এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, মহিলাকে কোন সংস্থা বা এজেন্সির মাধ্যমে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছিল। নিয়োগপত্রে পদ ও কর্মস্থল কী উল্লেখ ছিল, দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি কোনও আধিকারিক বা পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছিলেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের পরই সামনে আসতে পারে।

মহিলার দাবি, তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত হলে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে জানতে হবে, তাকে কতক্ষণ সেখানে রাখা হয়েছিল এবং বাইরে যাওয়া বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের স্বাধীনতা ছিল কি না। একইভাবে ভিডিও কলের অভিযোগও ডিজিটালভাবে খতিয়ে দেখা যেতে পারে। মোবাইল ফোন এবং সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রনিক রেকর্ড এ ধরনের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে।

ঘটনাটি বিহারের সেইসব যুবকদের ক্ষেত্রেও সতর্কতার বিষয় হয়ে উঠতে পারে, যারা কর্মসংস্থানের জন্য অন্য শহরে যান। চাকরি পাওয়ার পর প্রার্থীর নিয়োগপত্র এবং সংস্থার সম্পূর্ণ তথ্য পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে রাখা প্রয়োজন। সংস্থার নাম, কার্যালয়ের ঠিকানা, যোগাযোগের ব্যক্তির তথ্য, বেতন এবং থাকার ব্যবস্থার মতো তথ্য নিরাপদে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। চাকরির নামে কেউ পাসপোর্ট, মূল নথি বা মোবাইল নিজের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জানানো উচিত।

বিহারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার বড় পরিসরে কর্মমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। পাটনার মেগা জব ফেয়ারে ২০,২২৬ জন যুবকের নির্বাচন এবং পরের বছর থেকে সব জেলায় কর্মমেলা আয়োজনের ঘোষণা সেই কর্মসূচির অংশ। তবে এই কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে কর্মসংস্থানের নামে যুবকদের সঙ্গে প্রতারণা বা শোষণের অভিযোগ উঠলে তার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তও প্রয়োজন।

এই মুহূর্তে মহিলার অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা প্রয়োজন। পুলিশ বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযোগ, এফআইআর, গ্রেপ্তার বা তদন্ত-সংক্রান্ত সরকারি তথ্য সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। একইসঙ্গে যে সংস্থা বা এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বক্তব্যও সামনে আসা প্রয়োজন।

কর্মমেলার উদ্দেশ্য যুবকদের সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া। তাই নির্বাচিত কোনও প্রার্থীর সঙ্গে চাকরির পর কথিত জোরজবরদস্তি, আটকে রাখা বা শোষণের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। এই ঘটনাতেও অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি কর্মমেলায় নির্বাচন থেকে শুরু করে দিল্লিতে চাকরিতে যোগ দেওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত ছিলেন এবং মহিলার সঙ্গে বাস্তবে কী ঘটেছিল, তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a comment