বিহারে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে রাজ্যের একাধিক জেলার আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়েছে। রাজধানী পাটনাসহ পাঁচ জেলায় দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর রাজ্যের ৩৫ জেলায় বৃষ্টি ও আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করেছে। এর মধ্যে ৯ জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, রাজ্যে ৮ আগস্ট পর্যন্ত একইভাবে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাটনায় সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিরতিতে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমেছে। টানা বৃষ্টির ফলে শহরের নিচু এলাকায় জল জমার সমস্যা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া দফতর আগামী কয়েক দিন বিহারের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির জন্য সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্ব বিহারের জেলাগুলিতে বৃষ্টির কার্যকলাপ বেশি থাকার সম্ভাবনা জানানো হয়েছে। ৯টি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে, কারণ ধারাবাহিক বৃষ্টিতে নদী ও জলাশয়ের জলস্তর বাড়তে পারে।
পাটনাসহ যেসব জেলায় বর্তমানে দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে, সেখানে কখনও হালকা বৃষ্টি আবার কখনও প্রবল বর্ষণ দেখা যাচ্ছে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে দিনের তাপমাত্রাতেও প্রভাব পড়েছে।
মৌসুমি বৃষ্টির এই ধারা কৃষকদের জন্য স্বস্তি নিয়ে এসেছে। ধান চাষের জন্য এই বৃষ্টিকে উপযোগী বলে ধরা হয়। জমিতে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রোপণ এবং ফসলের বৃদ্ধিতে সহায়তা হতে পারে। তবে যেসব এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টি হবে, সেখানে জমিতে পানি জমে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও থাকতে পারে।
আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা অনুযায়ী, ৯ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা, সড়কে পানি জমা এবং যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গ্রামীণ এলাকায় কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচলও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
৩৫ জেলায় সতর্কতা জারির পর স্থানীয় প্রশাসনকে আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নদী ও জলাশয়ের আশপাশে বসবাসকারী মানুষকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির সময় নদী, খাল ও ছোট জলস্রোতের কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে পাটনার একাধিক প্রধান সড়কে যানবাহনের গতি কমে যেতে পারে। অফিস ও স্কুলগামীদের অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। প্রবল বৃষ্টির সময় নিচু এলাকায় পানি জমার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রাজ্যের গ্রামীণ এলাকাতেও আবহাওয়ার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বহু স্থানে কৃষকরা বৃষ্টির পর মাঠে কৃষিকাজে ব্যস্ত রয়েছেন। ধানের রোপণের জন্য বৃষ্টি উপযোগী হচ্ছে। অন্যদিকে, যেখানে টানা বৃষ্টি হচ্ছে সেখানে কৃষকেরা জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের দিকেও নজর দিচ্ছেন।
বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল হাওয়া বইলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যুতের খুঁটি, খোলা বৈদ্যুতিক তার এবং গাছের নিচে দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝড়ো হাওয়া বা প্রবল বাতাসের সময় বাড়ির বাইরে না যাওয়াই ভালো বলে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, ৮ আগস্ট পর্যন্ত বিহারে বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় কিছু জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং কিছু স্থানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। যেসব এলাকায় আগে থেকেই মাটিতে আর্দ্রতা বেশি বা নদীর জলস্তর উঁচু, সেখানে আবহাওয়ার প্রভাব বেশি দেখা যেতে পারে।
মৌসুমি বৃষ্টির সময় গঙ্গা, গণ্ডক, কোসি, বাগমতী এবং অন্যান্য নদীর জলস্তরের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এসব নদীর আশপাশে বসবাসকারীদের প্রশাসনের সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির ফলে নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে স্থানীয় আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ দূরত্বে যাত্রা করতে হবে, তাঁদের সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। গ্রামীণ ও পাহাড়ি ধরনের সংবেদনশীল এলাকায় সড়কের অবস্থা খারাপ হতে পারে।
পাটনাসহ একাধিক জেলায় বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে থাকতে পারে। মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির কারণে দিনের বেলায় গরম কমতে পারে, তবে বৃষ্টি থেমে গেলে আবার আর্দ্রতা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া দফতরের সতর্কতার পর জেলা প্রশাসনের সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। জলাবদ্ধ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ পর্যবেক্ষণ এবং নদীর জলস্তরের ওপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
রাজধানী পাটনায় বর্তমানে দফায় দফায় বৃষ্টি চলছে। মানুষ ছাতা ও রেইনকোট ব্যবহার করে বাইরে বের হচ্ছেন। বৃষ্টির কারণে সড়কে যানবাহনের গতি প্রভাবিত হচ্ছে। আগামী দিনে বৃষ্টি বাড়লে শহরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
আগামী কয়েক দিনে বিহারের আবহাওয়ায় স্বস্তি ও চ্যালেঞ্জ—উভয় পরিস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাভাবিক বৃষ্টি কৃষিকাজের জন্য উপযোগী হতে পারে, তবে যেসব জেলায় ভারী বৃষ্টি হবে সেখানে জলাবদ্ধতা ও বন্যাসদৃশ পরিস্থিতির আশঙ্কায় সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, ৮ আগস্ট পর্যন্ত বিহারে বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩৫ জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ৯ জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মানুষকে আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্যের দিকে নজর রাখতে এবং প্রবল বৃষ্টির সময় নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।







