বিহার TET-এ কঠোর নিরাপত্তা, ঘোমটা পরা পরীক্ষার্থীরও বিস্তারিত তল্লাশি

বিহার শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (TET)-এ নকল ও সলভার চক্র রোধে প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। পরিচয় যাচাই, বায়োমেট্রিক, ফেস ভেরিফিকেশন, মেটাল ডিটেক্টরসহ একাধিক ধাপের তল্লাশিবস্থার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিহার TET-এ কঠোর নিরাপত্তা, ঘোমটা পরা পরীক্ষার্থীরও বিস্তারিত তল্লাশি
Photo Credit / Attribution: google

বিহার শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (TET)-এ নকল ও সলভার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন এ বছর নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। এই কড়াকড়ির মধ্যেই একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে ঘোমটা পরে পরীক্ষা দিতে আসা এক মহিলা পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রবেশের আগে নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী মহিলা কর্মীরা তাঁর বিস্তারিত তল্লাশি চালান। এ সময় তাঁকে ঘোমটা সরাতে বলা হয়, খোঁপা খুলে পরীক্ষা করা হয় এবং হাতে পরা চুড়িও খুলতে বলা হয়, যাতে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা নিষিদ্ধ সামগ্রী লুকিয়ে রাখা না থাকে।

পরীক্ষাকেন্দ্রে কার্যকর নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসারে এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। মহিলা পরীক্ষার্থীর পরিচয় যাচাইয়ের পর তাঁকে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। উপস্থিত অন্যান্য পরীক্ষার্থীদেরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়। কোনো পরীক্ষার্থীকে তল্লাশি ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

পরীক্ষার প্রথম দিনে বিহারের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ১৫ জন কথিত সলভার আটক হওয়ার পর প্রশাসন ও পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থাগুলি আরও সতর্ক হয়ে ওঠে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির আশঙ্কা ছিল, কিছু ব্যক্তি ইলেকট্রনিক যন্ত্র বা অন্যান্য অবৈধ উপায়ে পরীক্ষায় অনিয়মের চেষ্টা করতে পারে। সেই কারণে দ্বিতীয় দিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়।

মহিলা পরীক্ষার্থীদের তল্লাশির জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে বিশেষভাবে মহিলা পুলিশকর্মী ও মহিলা কর্মীদের মোতায়েন করা হয়। প্রবেশদ্বারে পরিচয়পত্র মিলিয়ে দেখা, অ্যাডমিট কার্ড যাচাই, বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ, ফেস ভেরিফিকেশন এবং মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পরীক্ষা করার পরই পরীক্ষার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। যেসব পরীক্ষার্থী বড় আকারের গয়না, ঘড়ি, স্মার্ট ডিভাইস বা অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী পরেছিলেন, তাঁদের সেগুলি বাইরে জমা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষের মতে, ঘোমটা, পাগড়ি, খোঁপা, টুপি বা অন্য কোনো ধরনের পোশাক বা পরিধান নিয়ে আলাদা কোনো নিয়ম নেই। নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় কোনো বস্তুর পরীক্ষা প্রয়োজন হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারেই তা পরীক্ষা করা হয়। এর উদ্দেশ্য কেবল পরীক্ষার নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং নকল বা জালিয়াতি প্রতিরোধ করা।

আগের দিন কথিত সলভারদের আটক হওয়ার পর পুলিশ ও প্রশাসন একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে নজরদারি বাড়িয়েছে। সন্দেহজনক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের জন্য উড়নদস্তা দল, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে ভিড় করতে দেওয়া হয়নি এবং অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা হয়েছে।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, এ বছর আগের তুলনায় তল্লাশি অনেক বেশি কঠোর ছিল। তবে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী মনে করেন, এর মাধ্যমে পরীক্ষা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হলে এমন ব্যবস্থা প্রয়োজনীয়। তাঁরা নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে সব নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

শিক্ষা বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের দাবি, রাজ্যজুড়ে TET পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নকল, সলভার চক্র বা প্রযুক্তিগত উপায়ে প্রতারণার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসন পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে, শুধুমাত্র অনুমোদিত সামগ্রী সঙ্গে আনতে এবং নিরাপত্তা তল্লাশিতে পূর্ণ সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

Leave a comment