অযোধ্যার রাম মন্দিরে কথিত চড়াওয়া চুরির মামলায় তদন্ত জোরদার, সম্ভাব্য লুকানোর স্থানে নেওয়া হবে প্রধান অভিযুক্তকে

অযোধ্যার রাম মন্দিরে চড়াওয়া হিসেবে জমা পড়া অর্থের কথিত চুরির মামলায় পুলিশ তদন্ত আরও জোরদার করেছে। প্রধান অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ, সম্ভাব্য অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা, ডিজিটাল ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বিশ্লেষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
অযোধ্যার রাম মন্দিরে কথিত চড়াওয়া চুরির মামলায় তদন্ত জোরদার, সম্ভাব্য লুকানোর স্থানে নেওয়া হবে প্রধান অভিযুক্তকে
Photo Credit / Attribution: Google

অযোধ্যার রাম মন্দিরে চড়াওয়া হিসেবে জমা পড়া অর্থের কথিত চুরির মামলায় পুলিশ তদন্ত আরও জোরদার করেছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত অবিনাশকে ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারী দল এখন তাকে সেইসব সম্ভাব্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে তিনি কথিতভাবে চুরির অর্থ লুকিয়ে রেখেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের উদ্দেশ্য চুরি হওয়া সম্পূর্ণ অর্থ উদ্ধার করা এবং ঘটনার পর অভিযুক্ত অর্থ কোথায় কোথায় রেখেছিলেন তা নির্ধারণ করা।

পুলিশ সূত্রের মতে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তদন্তকারী দল সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শন করবে। অভিযুক্তের দেখানো স্থানে যদি নগদ অর্থ, নথি বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধার হয়, তবে সেগুলো তদন্তের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পুলিশ এটিও খতিয়ে দেখছে যে চুরির অর্থ অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে দেওয়া হয়েছিল কি না অথবা অন্য কোথাও সরিয়ে রাখা হয়েছিল কি না।

তদন্তকারী সংস্থাগুলো যাচাই করছে, অভিযুক্ত একাই চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন নাকি অন্য কারওও এতে ভূমিকা ছিল। পুলিশ অভিযুক্তের মোবাইল ফোন, কল ডিটেল রেকর্ড, ব্যাংক লেনদেন এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণও পরীক্ষা করছে। এর মাধ্যমে ঘটনার আগে ও পরে তার কার্যকলাপ এবং তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। পুলিশ মন্দির ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত অনিল মিশ্র ও গোপাল রাওকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনাক্রমের সময়রেখা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আরও স্পষ্ট হতে পারে। তবে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের পুনরায় প্রশ্ন করা হবে, সে সম্পর্কে পুলিশ কিছু জানায়নি।

তদন্তকারী দল মন্দির প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চড়াওয়া সংগ্রহ এবং নগদ অর্থ সংরক্ষণের পুরো প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, যার সুযোগ নিয়ে কথিত চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো স্তরে অবহেলার প্রমাণ মিললে তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রবেশ ও প্রস্থান পথের কার্যকলাপ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ বিশ্লেষণ করছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা ভৌত প্রমাণও পরীক্ষা করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বৈজ্ঞানিক ও ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে পুরো ঘটনাক্রমের বিভিন্ন সূত্র একত্র করা হচ্ছে, যাতে কোনো তথ্য উপেক্ষিত না হয়।

সূত্রগুলোর দাবি, অভিযুক্তের দেখানো স্থানে চুরির অর্থ বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধার হলে তদন্তে নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। পুলিশ জানতে চায়, কথিত চুরির পর অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে নাকি এখনও কোথাও সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্তকে ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশের বক্তব্য, তদন্ত নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতিতে এগোচ্ছে। চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টা, সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দিক তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো অপুষ্ট তথ্য বা গুজবে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, তদন্ত সম্পন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের পরই মামলার সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হবে।

Leave a comment