আজ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ উত্তর প্রদেশ আম মহোৎসবের উদ্বোধন করবেন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আনা ৮০০টিরও বেশি আমের জাত এই আয়োজনে এক মঞ্চে প্রদর্শিত হবে। মহোৎসবের উদ্দেশ্য আমের বৈচিত্র্য তুলে ধরা এবং কৃষক, উদ্যানপালক ও উৎপাদকদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করা।
উত্তর প্রদেশ দেশের অন্যতম বৃহত্তম আম উৎপাদক রাজ্য। এখানে দশেহরি, ল্যাংড়া, চৌসা, সাফেদা, অম্রপালি, মল্লিকা, রামকেলা, ফজলি-সহ বহু পরিচিত জাতের আম বৃহৎ পরিসরে চাষ করা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ু ও মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণে এখানে শতাধিক ঐতিহ্যবাহী ও উন্নত জাতের আমের বিকাশ হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্য দেশ ও বিশ্বের সামনে তুলে ধরতেই প্রতিবছর এই আম মহোৎসবের আয়োজন করা হয়।
এবারের মহোৎসবে ৮০০টিরও বেশি আমের জাত প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে থাকবে ঐতিহ্যবাহী, বিরল, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা নতুন জাত এবং বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় বিভিন্ন প্রজাতি। দর্শনার্থীরা এক স্থানেই বিভিন্ন জাতের আমের রং, আকার, স্বাদ, সুগন্ধ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। উদ্যানতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন জাতের বৈশিষ্ট্য এবং চাষাবাদের প্রযুক্তি সম্পর্কেও তথ্য প্রদান করবেন।
মহোৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য উত্তর প্রদেশের আম উৎপাদকদের বৃহত্তর বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেওয়া। আয়োজনে দেশ-বিদেশের ক্রেতা, রপ্তানিকারক, কৃষি বিশেষজ্ঞ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের প্রতিনিধিসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা অংশ নিতে পারেন। এর মাধ্যমে কৃষক ও উৎপাদকরা সম্ভাব্য ক্রেতাদের সামনে সরাসরি নিজেদের পণ্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একাধিক বাণিজ্যিক চুক্তি ও নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আম থেকে তৈরি বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্যও প্রদর্শিত হবে। আমের পাল্প, জুস, আচার, জ্যাম, স্কোয়াশ, ক্যান্ডি, শুকনো আমজাত পণ্য এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের স্টলও থাকবে। এর উদ্দেশ্য কৃষকদের জানানো যে শুধুমাত্র তাজা ফল বিক্রি নয়, প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমেও আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকরা যদি উন্নত বিপণন ব্যবস্থা, আধুনিক প্যাকেজিং, কোল্ড চেইন, রপ্তানি সুবিধা এবং মানসম্মত প্রক্রিয়াকরণ সম্পর্কে তথ্য পান, তবে উত্তর প্রদেশের আম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী পরিচিতি গড়ে তুলতে পারে। মহোৎসবে এসব বিষয় নিয়ে প্রযুক্তিগত অধিবেশন, আলোচনা এবং বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্য সরকারের লক্ষ্য আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে উদ্যানপালন খাতকে যুক্ত করে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করা। সেই লক্ষ্যে আম উৎপাদকদের নতুন চাষপদ্ধতি, রোগ ব্যবস্থাপনা, জৈব উৎপাদন, রপ্তানি মানদণ্ড এবং গুণমান নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হবে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যানপালকরাও বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনে সহায়তা পাবেন।
মহোৎসবে বিভিন্ন জেলার পরিচিত আমের জাতের প্রদর্শনীর পাশাপাশি স্বাদ পরীক্ষার আয়োজন, প্রতিযোগিতা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচিও থাকবে। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা উত্তর প্রদেশের সমৃদ্ধ উদ্যানপালন ঐতিহ্য এবং আমের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
কৃষি ও উদ্যানপালন খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আয়োজন কৃষক ও বাজারের মধ্যে দূরত্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উৎপাদকরা যখন সরাসরি ক্রেতা, রপ্তানিকারক এবং শিল্প প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পান, তখন তাঁদের পণ্যের উন্নত মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি এবং বাজারের চাহিদা সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হতে যাওয়া এই মহোৎসব উত্তর প্রদেশের উদ্যানপালন সক্ষমতা, আম উৎপাদন এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোগকে নতুন পরিচিতি দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজন করা হচ্ছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে রাজ্যের আম উৎপাদকরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবেন এবং উত্তর প্রদেশের আমের পরিচিতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বিস্তৃত হবে।












