বিহারে ২৭-২৮ অক্টোবর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, ২৯-৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

আবহাওয়া দফতরের ২৪ অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিহারে ২৭ ও ২৮ অক্টোবর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং জোরালো হাওয়া বইতে পারে। ২৯ ও ৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দীপাবলির আগে আবহাওয়ার পরিবর্তন কৃষিকাজ ও উৎসবের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিহারে ২৭-২৮ অক্টোবর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, ২৯-৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
Photo Credit / Attribution: google

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বিহারের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়-সংক্রান্ত আবহাওয়াগত কার্যকলাপের প্রভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের ২৪ অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর বিহারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং জোরালো হাওয়া বইতে পারে। পাশাপাশি, ২৯ ও ৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চল এবং ঘূর্ণিঝড়-সংক্রান্ত কার্যকলাপ পূর্ব ভারতের আবহাওয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে বিহারের বিভিন্ন এলাকায় আকাশ মেঘলা থাকা, জোরালো হাওয়া বওয়া এবং বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজ্যে আবহাওয়ার পরিবর্তনের মাত্রা নির্ভর করবে আবহাওয়া ব্যবস্থার গতিপথ, তীব্রতা এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির উপর।

দীপাবলির আগে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় উৎসবের প্রস্তুতিতে আবহাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে। এই সময় বাজারে কেনাকাটা বাড়ে এবং বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী দোকান ও সাজসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। বৃষ্টি হলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে। খোলা জায়গায় রাখা পণ্য, বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা এবং অস্থায়ী মণ্ডপও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অক্টোবরের শেষ দিকের আবহাওয়া কৃষিকাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় বিহারের বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটাই এবং রবি শস্যের বপন সংক্রান্ত কাজ চলে। একটানা বৃষ্টি হলে জমিতে তৈরি ধান কাটতে, কাটা ফসল শুকোতে এবং শস্য নিরাপদে সংরক্ষণ করতে সমস্যা হতে পারে। অন্যদিকে, জমির আর্দ্রতার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে রবি শস্যের বপনও প্রভাবিত হতে পারে। তবে কৃষিকাজে বৃষ্টির প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবং স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর।

আবহাওয়া দফতরের ২৪ অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুসারে, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর বিহারের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং জোরালো হাওয়া বইতে পারে। ২৯ ও ৩০ অক্টোবরের জন্য ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোন কোন জেলায় বৃষ্টির প্রভাব বেশি থাকবে, তা পরবর্তী পূর্বাভাস থেকে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব সরাসরি বিহারে পৌঁছবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই। আবহাওয়া ব্যবস্থাটির সম্ভাব্য গতিপথ এবং বিহারের উপর তার প্রভাব পরবর্তী পূর্বাভাসের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে। তাই অক্টোবরের শেষ দিনগুলিতে আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন হলে খোলা জায়গায় যাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রবিদ্যুতের সময় গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি এবং দুর্বল কাঠামো থেকে দূরে থাকার কথাও বলা হয়েছে। কৃষকদের কাটা ফসল নিরাপদ স্থানে রাখার পাশাপাশি বৃষ্টির সম্ভাবনা বিবেচনা করে কৃষিকাজের পরিকল্পনা করার প্রয়োজন রয়েছে। দীপাবলির আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস দেখে উৎসবের প্রস্তুতি ও দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a comment