জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ এখন কার্যত মরণফাঁদ। বীরভূম জেলার ইলামবাজার-পাড়ুই সড়কের কাটনা গ্রামের কাছে সেচখালের উপর অবস্থিত প্রায় ৫০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে। প্রতিদিন বাস, লরি-সহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করলেও সংস্কারের অভাবে সেতুর কঙ্কালসার চেহারা এখন স্পষ্ট। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—বড় দুর্ঘটনার পরেই কি নড়বে প্রশাসন?
পলেস্তারা খসে বেরিয়েছে রড, দেবে গিয়েছে সেতুর অংশ
দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিতে সেতুর পলেস্তারা প্রায় সম্পূর্ণ খসে পড়েছে। ভিতরের লোহার রড এখন উন্মুক্ত। সেতুর একাংশ ভারী যানবাহনের চাপে বিপজ্জনকভাবে দেবে গিয়েছে। দু’ধারের রেলিং ভেঙে পড়েছে বহু আগেই। চওড়া ফাটল তৈরি হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত পণ্যবাহী লরির নিয়মিত চলাচলই পরিস্থিতিকে আরও সংকটজনক করে তুলেছে।
একাধিক গ্রামের একমাত্র ভরসা এই সেতুই
বাম আমলে ময়ূরাক্ষী সেচ দফতরের উদ্যোগে নির্মিত এই সেতুটি ইলামবাজার ও পাড়ুইয়ের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান অবলম্বন। নানাসোল, বিলাতি, ধরমপুর, মঙ্গলডিহি ও অবিনাশপুর-সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা এই পথেই নিয়মিত যাতায়াত করেন। এমনকি ইলামবাজার-পাড়ুই রুটের যাত্রীবাহী বাস চলাচলেরও এটি অন্যতম প্রধান রাস্তা। ফলে সেতু বন্ধ হলে গোটা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে।
প্রশাসনের দাবি ও বাস্তব চিত্র
ইলামবাজারের বিডিও অনির্বাণ মজুমদার জানিয়েছেন, ২০২৩ সাল থেকেই সেচ দফতরকে সেতুর বিপজ্জনক অবস্থা সম্পর্কে বারবার অবহিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারী যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাস ও লরি।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি
প্রশাসনের ঢিলেঢালা মনোভাব নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও সেচ দফতর এখনও সংস্কারের কাজে হাত দেয়নি। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষদের। বড় কোনও বিপর্যয় ঘটার আগেই অবিলম্বে মেরামত বা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বীরভূমের ইলামবাজার-পাড়ুই রাস্তায় কাটনা গ্রামের কাছে সেচখালের উপর নির্মিত সেতুটি ভগ্নদশায়। পলেস্তারা খসে বেরিয়ে এসেছে লোহার রড, রেলিং ভেঙে পড়েছে, একাংশ দেবে গিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনও মুহূর্তে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।











