রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন মানেই খোয়াই, বাউল গান আর সোনাঝুরির হাট। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত থাকে এই এলাকা। কিন্তু এবার সেই সোনাঝুরি হাটকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক। পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত দাবি করেছেন, বনদফতরের জমিতে বেআইনিভাবে চলছে এই হাট। শুধু তাই নয়, জঙ্গল ধ্বংস, গাছ কাটা ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগও উঠেছে। ফলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে— তবে কি এবার বন্ধ হতে পারে বহু পরিচিত এই হাট?
সোনাঝুরি হাটে গিয়ে ক্ষোভ পরিবেশ কর্মীর
পরিবেশ কর্মী Subhas Dutta সম্প্রতি সোনাঝুরি হাট পরিদর্শন করেন। সেখানে গাছ কাটার ছবি সংগ্রহ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই ছবিগুলি ও তথ্য জাতীয় পরিবেশ আদালতে হলফনামা আকারে জমা দেওয়া হবে।তিনি অভিযোগ করেন, জঙ্গলের ভিতরে যেভাবে গাছ কাটা হচ্ছে, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বনদফতরের জমিতে এই ধরনের বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চললেও সংশ্লিষ্ট দফতরের কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়ছে না বলেও দাবি তাঁর।
‘হাট সম্পূর্ণ বেআইনি’, দাবি সুভাষ দত্তের
সুভাষ দত্তের কথায়, “সোনাঝুরির হাট সম্পূর্ণ বেআইনি। আদালত শেষ পর্যন্ত এই হাট তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে বলেই আমার বিশ্বাস।”তাঁর অভিযোগ, জঙ্গলের ভিতরে অবাধে চারচাকা গাড়ি প্রবেশ করছে। ফলে মাটির ক্ষয় হচ্ছে, গাছের শিকড় নষ্ট হচ্ছে এবং জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিবেশের উপর চাপ বাড়ছে।
প্লাস্টিক দূষণেও বাড়ছে উদ্বেগ
পরিবেশকর্মীর দাবি, পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক বোতল, ক্যারিব্যাগ ও আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে গোটা এলাকা। জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।এই কারণেই জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। আদালতের তরফে প্রশ্ন তোলা হলেও বনদফতর এখনও স্পষ্টভাবে জানাতে পারেনি, কোন সরকারি নির্দেশে এই হাট পরিচালিত হচ্ছে।
কীভাবে শুরু হয়েছিল সোনাঝুরির খোয়াই হাট?
বর্তমানের এই বিশাল পর্যটনকেন্দ্র একসময় ছিল ছোট্ট স্থানীয় শিল্পীদের উদ্যোগ। ২০০০ সালের কাছাকাছি সময়ে কয়েকজন আদিবাসী শিল্পী সোনাঝুরির জঙ্গলে নিজেদের হস্তশিল্প বিক্রি করতে বসতেন।সপ্তাহে শুধুমাত্র শনিবার বসত এই হাট। সেই কারণেই একসময় একে ‘শনিবারের হাট’ বলা হত। জানা যায়, আশ্রমকন্যা শ্যামলী খাস্তগীর এই খোয়াই হাটের সূচনা করেছিলেন।
সময়ের সঙ্গে বদলেছে হাটের চেহারা
২০১১ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে হাটের বিস্তার বাড়তে থাকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বহিরাগত বিক্রেতাদের সংখ্যাও বাড়ে।বর্তমানে শুধু শনিবার নয়, প্রায় প্রতিদিনই বসছে এই হাট। পর্যটকদের ভিড়ও আগের তুলনায় বহু গুণ বেড়েছে। তবে সেই জনপ্রিয়তার সঙ্গেই এখন জুড়েছে পরিবেশ রক্ষার প্রশ্ন।
পর্যটন বনাম পরিবেশ— নতুন বিতর্কে শান্তিনিকেতন
একদিকে সোনাঝুরি হাট শান্তিনিকেতনের অর্থনীতি ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বহু স্থানীয় শিল্পী, কারিগর ও ব্যবসায়ীর রুজিরুটি জড়িয়ে রয়েছে এই হাটকে কেন্দ্র করে।অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ফলে এখন নজর জাতীয় পরিবেশ আদালতের দিকেই। আদালতের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে সোনাঝুরি হাটের ভবিষ্যৎ।
শান্তিনিকেতনের জনপ্রিয় সোনাঝুরি খোয়াই হাটকে ঘিরে নতুন বিতর্ক। পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্তের দাবি, বনদফতরের জমিতে বেআইনিভাবে বসছে এই হাট। গাছ কাটা, প্লাস্টিক দূষণ ও পরিবেশ নষ্টের অভিযোগ তুলে তিনি জাতীয় পরিবেশ আদালতে হলফনামা জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে— বন্ধ হতে পারে কি শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী এই হাট?











