বিজেপির জনসংযোগে নতুন কৌশল ফুটবল টুর্নামেন্টে যুবসমাজকে টার্গেট

বিজেপির জনসংযোগে নতুন কৌশল ফুটবল টুর্নামেন্টে যুবসমাজকে টার্গেট

ফুটবলেই নজর বিজেপির

বাংলায় জনসংযোগ বাড়াতে এবার খেলাধুলোকেই হাতিয়ার করছে বিজেপি। দলীয় সূত্রে খবর, পাড়ায় পাড়ায় ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যজুড়ে। উদ্দেশ্য একটাই—যুবসমাজকে কাছে টানা এবং আগামী ভোটের আগে জনমুখী ভাবমূর্তি তৈরি করা।

বঙ্গীয় সংস্কৃতি ও ফুটবলের আবেগ

রাজনীতির ময়দানে যখন তৃণমূল বারবার বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতিকে সামনে রেখে বিজেপিকে কোণঠাসা করতে চাইছে, তখন পাল্টা দাওয়াই হিসেবে ফুটবলকে বেছে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই খেলাকে সামনে রেখে সংগঠনের ভিত আরও শক্ত করতে চাইছে বিজেপি।

গেরুয়া শিবিরে নতুন বার্তা

গেরুয়া শিবিরের যুক্তি, স্বামী বিবেকানন্দ যেমন বলেছিলেন—‘গীতা পড়ার চেয়ে ফুটবল খেলা মানুষকে বেশি শক্তি দেয়’, সেই বাণীই এবার পথনির্দেশক। বিজেপি মনে করছে, এই টুর্নামেন্ট কেবল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এর মাধ্যমে যুবসমাজকে সাংগঠনিকভাবে কাছে টানার বড় সুযোগ তৈরি হবে।

প্রতিটি এলাকায় টুর্নামেন্ট

যে সব এলাকায় বিজেপির সাংসদ বা বিধায়ক রয়েছেন, তাঁদের উদ্যোগে এই ম্যাচের আয়োজন করা হবে। আর যেখানে নেই, সেখানে সাংগঠনিকভাবে টুর্নামেন্ট হবে। অর্থাৎ গোটা রাজ্য জুড়েই ফুটবলের আসর বসাতে চাইছে গেরুয়া বাহিনী।

বেকারত্ব-অসন্তোষ ঠেকাতে পরিকল্পনা

যুব সমাজের মধ্যে বাড়তে থাকা বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের অভাব বিজেপির জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী বিধানসভা ভোটে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দল। তাই জনসংযোগ বাড়াতেই ক্রীড়াকে হাতিয়ার করা হচ্ছে।

১১ সেপ্টেম্বর থেকে সূচনা

সূত্রের খবর, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের প্রতিটি সাংগঠনিক মণ্ডল কমিটিতে ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু করতে চলেছে বিজেপি। তবে টুর্নামেন্টের কোথাও দলের পতাকা বা প্রতীক থাকবে না। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অরাজনৈতিক’ টুর্নামেন্ট হলেও, আড়ালে বিজেপি নেতারাই থাকবেন এর আয়োজনের দায়িত্বে।

‘নরেন্দ্র কাপ’-এর সম্ভাবনা

প্রাথমিকভাবে শোনা যাচ্ছে, এই টুর্নামেন্টের নাম রাখা হতে পারে ‘নরেন্দ্র কাপ’। ১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শিকাগোতে স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটিকে স্মরণ করেই এই সূচনা করতে চাইছে বিজেপি। ফলে রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আবেগকেও কাজে লাগাতে চাইছে দল।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে গোপনীয়তা

যদিও এখনও পর্যন্ত বঙ্গ বিজেপির কোনও পদাধিকারী প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। নাম কী হবে, ফর্ম্যাট কেমন হবে, কবে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে—এসব বিষয় চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নীরবই রয়েছেন নেতারা। তবে সূত্র বলছে, টুর্নামেন্টকে ঘিরে বড় পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির।

Leave a comment