উত্তর ২৪ পরগনায় সুবেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতা সুবেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে এবং পুলিশ একাধিক দিক খতিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামে বুধবার রাতে বিজেপি নেতা Suvendu Adhikari-র ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ (৪২)-কে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি রাত প্রায় ১০টা ৩০ মিনিটে ঘটে, যখন তিনি কলকাতা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হামলাটি পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়। স্করপিও গাড়িতে থাকা চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে ৬ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। তাঁর শরীরে চারটি গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

ঘटनাটি কলকাতা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে দোলতলা ও মধ্যমগ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রথমে একটি গাড়ি স্করপিওর সামনে এসে দাঁড়ায় এবং সেটিকে থামিয়ে দেয়। এরপর একটি মোটরবাইকে এসে আরেক হামলাকারী গাড়ির বাঁদিক থেকে পরপর গুলি চালায়। হামলায় চালক বুদ্ধদেব বেরা গুরুতর আহত হন।

হামলার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে গাড়ি ফেলে মোটরবাইকে পালিয়ে যায়। পুলিশ গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে। তদন্তে জানা গেছে, গাড়িতে ব্যবহৃত নম্বরপ্লেটটি ভুয়ো ছিল।

ফরেন্সিক দলের প্রাথমিক রিপোর্টে হামলায় গ্লক 47X ধরনের আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এ ধরনের অস্ত্র সাধারণত পেশাদার অপরাধী বা সংগঠিত অপরাধচক্র ব্যবহার করে থাকে।

পুলিশের সন্দেহ, হামলাটি আকস্মিক নয় এবং আগে থেকে নজরদারি চালিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে চন্দ্রনাথ রথের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। মোটরবাইকে থাকা হামলাকারীর মাথায় হেলমেট ছিল এবং বাইকটিতে নম্বরপ্লেটও ছিল না।

উত্তর ২৪ পরগনায় সুবেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা

ঘটনার পর Suvendu Adhikari এই ঘটনাকে “পূর্বপরিকল্পিত হত্যা” বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্র অপরাধমূলক ঘটনা নয়, রাজনৈতিক হিংসার অংশও হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, বিজেপি রাজ্যে “গুন্ডাগিরি ও অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান” চালাবে।

এই ঘটনার পর শাসক দল All India Trinamool Congress এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির অভিযোগ খারিজ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের তত্ত্বাবধানে Central Bureau of Investigation-এর মাধ্যমে তদন্ত হওয়া উচিত, যাতে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসে। দলটি সমস্ত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে।

চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলেকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তাঁর ছেলের উপর ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী পরিবেশে একাধিক উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল, যার প্রভাব এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে সামনে আসছে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে তিনি বলেন, তাঁদের যাবজ্জীবনের কম সাজা হওয়া উচিত নয়।

ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা বাড়ছে এবং প্রশাসন তা রোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে একাধিক দল গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক শত্রুতা, ব্যক্তিগত বিরোধ অথবা সংগঠিত অপরাধচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ফরেন্সিক প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল লোকেশন ডেটা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।

Leave a comment