ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়ে একটি বিস্তৃত রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব আগামী কৌশলে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতাদের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে। পুরো পরিকল্পনা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাসভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংগঠন ও সরকার—উভয় স্তরে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির জাতীয় সভাপতি জে. পি. নাড্ডা, সংগঠন মহাসচিব বি. এল. সন্তোষ এবং সংঘের পক্ষ থেকে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধিসহ একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বিজেপির নতুন সাংগঠনিক টিম এবং সম্ভাব্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের একটি বিস্তারিত খসড়া তৈরি করা হয়। বিভিন্ন রাজ্য থেকে উঠে আসা নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং দলের মধ্যে প্রজন্মগত পরিবর্তনের গতি বাড়ানোর বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নতুন কৌশলের অধীনে সংগঠনে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব রাজ্যে বিজেপি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখছে, সেসব রাজ্যের উদীয়মান মুখদের সামনে আনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে তামিলনাড়ু, কেরল, তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অঞ্চলে তরুণ নেতাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব দিয়ে দল তার তৃণমূল স্তরের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে চায়।
![]()
সূত্রের দাবি, জাতীয় স্তরে মহাসচিব ও সম্পাদক পদে তরুণ মুখদের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে সহ-সভাপতি, সংসদীয় বোর্ড এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিজ্ঞ নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
বিজেপির কৌশলে অভিজ্ঞতা ও তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সাংগঠনিক কাঠামোতে নতুন মুখদের সামনে আনার প্রস্তুতি থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ নেতাদের ভূমিকা বজায় থাকবে। আসন্ন নির্বাচন এবং সাংগঠনিক সম্প্রসারণকে সামনে রেখে এই কৌশল তৈরি করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি, যাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব কাঠামো আরও শক্তিশালী করা যায়।
জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর পক্ষ থেকেও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংঘের মতে, এমন একটি নতুন দল গঠন করা উচিত যা আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। সংঘের পরামর্শ অনুযায়ী, রাজ্য স্তরে সক্রিয় এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। পাশাপাশি আদর্শের প্রতি আনুগত্যকে নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। একাধিক মন্ত্রকে রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মাধ্যমে সরকারের কার্যপ্রণালী আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দলের সাংসদদের সম্ভাব্য সমর্থনের বিষয়টি মাথায় রেখে কৌশলগত সমীকরণও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
যদিও সাংগঠনিক পরিবর্তন এবং মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সম্পূর্ণ রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের দাবি, সম্প্রতি বিদেশ সফর থেকে ফিরে আসা প্রধানমন্ত্রী মোদি শিগগিরই প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন এবং তার পরেই চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে।











