ভারতীয় জনতা পার্টি অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে তাদের ঘোষণাপত্র, যাকে দল ‘সঙ্কল্প পত্র’ বলে অভিহিত করছে, প্রকাশ করেছে। গुवাহাটিতে এক অনুষ্ঠানে এই সঙ্কল্প পত্র উপস্থাপন করা হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা উপস্থিত ছিলেন। নথিতে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অসমিয়া পরিচয় সংরক্ষণসহ একাধিক প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজধানী গुवাহাটিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্মলা সীতারামন সঙ্কল্প পত্র প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, প্রদেশ বিজেপি সভাপতি দিলীপ সাইকিয়া এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতা।
দল এই ঘোষণাপত্রকে কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির নথি হিসেবে নয়, বরং রাজ্যের ভবিষ্যতের একটি রূপরেখা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী, গত দশ বছরে সম্পন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিতে এই সঙ্কল্প পত্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকনির্দেশও নির্ধারণ করে।
নির্মলা সীতারামন সঙ্কল্প পত্র প্রকাশের সময় বলেন, এই নথি অসমে গত এক দশকে হওয়া পরিবর্তনের প্রতিফলন। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস দীর্ঘ সময়ে যে কাজ করতে পারেনি, বিজেপি সরকার তা স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করেছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, কিন্তু এখন পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। তার মতে, বিজেপি সরকারের সময়ে অসমে উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে রাজ্যের যুবকেরা ফিরে এসে নিজেদের রাজ্যেই কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছে।
বিজেপি তাদের সঙ্কল্প পত্রে অসমে শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। দলের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেই উন্নয়ন সম্ভব।
নির্মলা সীতারামন বলেন, অতীতে অসম দীর্ঘ সময় ধরে অশান্তি এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে, তবে বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের নীতির কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
![]()
সঙ্কল্প পত্রে যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ভবিষ্যতে রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপন করা হবে এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দলের লক্ষ্য, অসমের যুবকদের নিজেদের রাজ্যেই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, যাতে তাদের বাইরে যেতে না হয়। এই উদ্দেশ্যে নতুন পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগ আনার কথা বলা হয়েছে।
বিজেপি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকেও অগ্রাধিকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। সঙ্কল্প পত্রে বলা হয়েছে, বিদ্যালয় ও কলেজের মানোন্নয়ন করা হবে এবং আধুনিক সুবিধা প্রদান করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতে হাসপাতালের সংখ্যা বৃদ্ধি, উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা এবং গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দলের মতে, এই পদক্ষেপগুলি মানুষের জীবনমান উন্নত করবে।
সঙ্কল্প পত্রে অসমিয়া পরিচয় এবং মূল বাসিন্দাদের সুরক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে রাজ্যের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ভাষা রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভূমি ও ঐতিহ্যের সুরক্ষার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। অবৈধ দখল এবং অন্যান্য হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে স্থানীয় মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
বিজেপি অসমকে দেশের পূর্ব প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দলের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিনিয়োগ শিল্প, বাণিজ্য এবং অবকাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করবে, যার ফলে রাজ্যের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর জন্য ১২৬টি আসনে এক দফায় ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ৪ মে ঘোষণা করা হবে। রাজ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে বলে ধরা হচ্ছে। উভয় দলই নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নিয়োজিত রয়েছে এবং ভোটারদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে।












