প্রস্রাবে হঠাৎ রক্ত দেখা গেলে অনেকেই সেটিকে সাময়িক সংক্রমণ বা অন্য সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূত্রাশয়ের ক্যানসারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও হতে পারে। ভারতে এই ক্যানসারের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে কম হলেও সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই ঝুঁকির কারণ, প্রাথমিক লক্ষণ এবং দ্রুত রোগ নির্ণয় সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
মূত্রাশয়ের ক্যানসার কী?
মূত্রাশয় (Bladder) হল শরীরের এমন একটি অঙ্গ, যেখানে কিডনি থেকে আসা প্রস্রাব সাময়িকভাবে জমা থাকে। এই অঙ্গের কোষে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শুরু হলে ব্লাডার ক্যানসার তৈরি হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগ সাধারণত ৫৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং নারীদের তুলনায় পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
কোন কোন কারণে ঝুঁকি বাড়ে?
অনকোলজিস্টদের মতে, কয়েকটি কারণ ব্লাডার ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে—
ধূমপানের অভ্যাস
৫৫ বছরের বেশি বয়স
পরিবারে ব্লাডার ক্যানসারের ইতিহাস
রং, রাবার, চামড়া, বস্ত্র বা রাসায়নিক শিল্পে দীর্ঘদিন কাজ করা
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অলস জীবনযাপন
ক্ষতিকর শিল্প রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ
ধূমপানকে এই ক্যানসারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে ধরা হয়, কারণ তামাকের ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রস্রাবের মাধ্যমে মূত্রাশয়ে পৌঁছে কোষের ক্ষতি করতে পারে।
ব্লাডার ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ কী কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের উপসর্গগুলি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া (উজ্জ্বল লাল বা কোলার মতো রঙ)
জমাট বাঁধা রক্ত প্রস্রাবে দেখা যাওয়া
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ
প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা
কোমর বা পিঠে ব্যথা
দীর্ঘদিন ধরে মূত্রসংক্রান্ত সমস্যা
তবে মনে রাখতে হবে, এই উপসর্গগুলির কারণ সবসময় ক্যানসার নয়। সংক্রমণ বা অন্যান্য রোগেও এমন হতে পারে। তাই পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?
উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসক সাধারণত কয়েকটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন—
প্রস্রাব পরীক্ষা
রক্ত পরীক্ষা
আল্ট্রাসাউন্ড
সিটি স্ক্যান বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষা
সিস্টোস্কোপি (Cystoscopy)
বায়োপসি
বায়োপসির মাধ্যমেই সাধারণত ক্যানসার নিশ্চিত করা হয় এবং রোগের পর্যায় নির্ধারণ করা হয়।
প্রতিরোধে কী করবেন?
ব্লাডার ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দেন—
ধূমপান সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করুন।
পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।
স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন।
কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করুন।
প্রস্রাবে রক্ত বা দীর্ঘদিনের মূত্রসংক্রান্ত সমস্যা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা।
মূত্রাশয়ের ক্যানসার (Bladder Cancer) তুলনামূলকভাবে পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও নারীরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রস্রাবে রক্ত, ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা কোমরে অস্বস্তি—এসব উপসর্গকে কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু হলে রোগ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।













