হলিউড অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলি তাঁর চলচ্চিত্র ‘It Ends With Us’-এর সহ-অভিনেতা ও পরিচালক জাস্টিন বাল্ডোনির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং মানহানির অভিযোগ এনেছিলেন। চলমান এই আইনি বিরোধে সাম্প্রতিক এক আদালতের সিদ্ধান্তের পর মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে। ফেডারেল কোর্ট যৌন হয়রানির সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে, যার ফলে এখন লাইভলির আইনজীবী দল মূলত মানহানির মামলার উপরই গুরুত্ব দিচ্ছে।
আদালতের সিদ্ধান্ত
বিচারপতি লুইস লিম্যান মামলার শুনানির সময় মোট ১৩টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি খারিজ করে দেন। খারিজ হওয়া অভিযোগগুলির মধ্যে যৌন হয়রানি, মানহানি এবং কথিত ষড়যন্ত্রের দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে আদালত কয়েকটি অভিযোগকে ট্রায়ালের জন্য এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি নিউ ইয়র্কের সিভিল ট্রায়াল কোর্টে ১৮ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
জাস্টিন বাল্ডোনি পূর্বেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তাঁর আচরণ সম্পূর্ণ পেশাদার ছিল। অন্যদিকে ব্লেক লাইভলি অভিযোগ করেছেন যে চলচ্চিত্রের সেটে তাঁর শারীরিক গঠন এবং ওজন নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছিল, যা তিনি যৌন হয়রানি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আইনি বিরোধের সূচনা
ব্লেক লাইভলি এবং জাস্টিন বাল্ডোনির মধ্যে এই বিরোধের সূচনা ২০২৪ সালে। লাইভলি অভিযোগ করেন যে তাঁর চলচ্চিত্রের সেটে যৌন হয়রানি হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে একটি প্রচারাভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বাল্ডোনি এবং তাঁর দল ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিল।
![]()
এর জবাবে জাস্টিন বাল্ডোনি অভিযোগ অস্বীকার করে লাইভলির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এই আইনি প্রক্রিয়ায় একাধিক জটিলতা সামনে আসে। তবে আদালত বৃহস্পতিবার জানায় যে যৌন হয়রানির অধিকাংশ দাবি আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ট্রায়ালে মানহানি মামলার উপর গুরুত্ব
ভ্যারাইটি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্লেক লাইভলির আইনজীবী দল এখন কেবল মানহানির মামলার উপরই গুরুত্ব দেবে। দলের সদস্য সিগ্রিড ম্যাককাউলি বলেন, জুরি নির্ধারণ করবে লাইভলি সত্যিই প্রতিশোধমূলক প্রচারের শিকার হয়েছেন কি না।
সিগ্রিড ম্যাককাউলি বলেন, “এই মামলা সবসময়ই অসাধারণ পদক্ষেপ এবং ভয়াবহ প্রতিশোধমূলক আচরণের উপর ভিত্তি করে ছিল। বিপরীত পক্ষ ব্লেকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি ঘটেছে কারণ ব্লেক চলচ্চিত্রের সেটে নিজের এবং অন্যদের নিরাপত্তার জন্য কথা বলেছিলেন। এখন এই বিষয়টিই ট্রায়ালে এগিয়ে যাচ্ছে।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে লাইভলি এবং তাঁর দল নিরাপত্তা এবং পেশাগত মর্যাদার বিষয়কে কেন্দ্র করে মামলাটি ট্রায়ালে নিয়ে যেতে প্রস্তুত।
আইনি প্রক্রিয়া ও শিল্পে প্রাসঙ্গিকতা
হলিউডে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চলচ্চিত্রের সেটে যৌন হয়রানি এবং মানহানির সঙ্গে যুক্ত আইনি বিরোধের সংখ্যা বেড়েছে। এ ধরনের মামলা প্রায়ই দীর্ঘ সময় ধরে জনসমক্ষে আলোচিত থাকে। ব্লেক লাইভলি এবং জাস্টিন বাল্ডোনির এই মামলাও সেই প্রবণতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা চলচ্চিত্র শিল্পে পেশাগত সীমা ও অধিকার নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে।








