সকালের জলখাবার হোক কিংবা শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে—ডিম আজ প্রায় সব বাঙালি ঘরেই নিত্যদিনের খাবার। পোচ, অমলেট কিংবা সেদ্ধ—ডিমের নানা পদ সমান জনপ্রিয়। কিন্তু ডিম ভাঙার পর যদি কুসুমের মধ্যে হঠাৎ লাল রক্তের দাগ চোখে পড়ে, তখন অনেকেই দোটানায় পড়ে যান—এই ডিম খাওয়া উচিত, না ফেলে দেওয়া ভালো?
ডিমের কুসুমে রক্তের দাগ কেন দেখা যায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম তৈরি হওয়ার সময় মুরগির ডিম্বনালী দিয়ে যাওয়ার পথে কখনও কখনও সূক্ষ্ম রক্তনালিতে আঘাত লাগে। তার ফলেই কুসুমে ছোট রক্তের দাগ বা মাংসের মতো টুকরো দেখা যেতে পারে। এটি কোনও ভ্রূণ তৈরি হওয়ার লক্ষণ নয়, বরং একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।
এমন ডিম খেলে কি শরীরের ক্ষতি হয়
পুষ্টিবিদদের বক্তব্য, ডিম যদি ভালোভাবে রান্না করা হয়—সেদ্ধ, ভাজা বা অমলেট—তাহলে কুসুমে রক্তের দাগ থাকলেও শরীরের কোনও ক্ষতি হয় না। অনেকেই অস্বস্তির কারণে সেই অংশ চামচ দিয়ে তুলে ফেলে রান্না করেন, তাতেও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি থাকে না।
কোন অবস্থায় ডিম একেবারেই খাবেন না
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।যদি ডিমের সাদা অংশ গোলাপি, লালচে বা সবুজ রঙের হয়ে যায়, তাহলে সেই ডিম একেবারেই খাবেন না। এই ধরনের রঙ পরিবর্তন সাধারণত বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের লক্ষণ। এমন ডিম খেলে পেটের সমস্যা, ফুড পয়জনিং এমনকি গুরুতর অসুস্থতাও হতে পারে।
বাজারে কেন খুব কম দেখা যায় এমন ডিম
পরিসংখ্যান বলছে, মোট ডিমের মাত্র প্রায় ১ শতাংশ কুসুমে রক্তের দাগ থাকে। বাজারে আসার আগে ডিমগুলোকে ‘ক্যান্ডলিং’ পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়। শক্ত আলো ফেলে ডিমের ভিতর দেখা হয়, যাতে কুসুমের দাগ ধরা পড়ে। এই পরীক্ষায় অধিকাংশ রক্তের দাগযুক্ত ডিম আগেই বাতিল হয়ে যায়।
খয়েরি ডিমে দাগ বেশি চোখে পড়ে কেন
সাদা খোলের তুলনায় খয়েরি খোলের ডিমে কুসুমের রক্তের দাগ তুলনামূলক বেশি ধরা পড়ে। কারণ খয়েরি খোলের রং অনেক সময় ভিতরের দাগ ঢেকে দেয়, ফলে পরীক্ষার সময় তা চোখ এড়িয়ে যায় এবং বাজারে চলে আসে।
ডিমের সাদা অংশে রক্তের দাগ থাকলে কী করবেন
কিছু ক্ষেত্রে ডিমের সাদা অংশেও হালকা রক্তের দাগ দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ডিম তাজা হয় এবং ভালোভাবে রান্না করা হয়, তাহলে তাতেও সাধারণত ক্ষতি হয় না। তবে দুর্গন্ধ বা রঙ পরিবর্তন হলে সঙ্গে সঙ্গে ডিম ফেলে দেওয়া উচিত।
ডিম ভাঙার পর কুসুমে লালচে রক্তের দাগ বা মাংসের মতো টুকরো দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই ধরনের ডিম খাওয়া কি আদৌ নিরাপদ? শরীরের ক্ষতি হয় কি না—এই প্রতিবেদনেই মিলবে সব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর।













