Dogs Vaccination to Save Tiger: বাঘ বাঁচাতে ৪০০-র বেশি কুকুরকে টিকা! বক্সায় শুরু অভিনব উদ্যোগ, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচি?

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় ৪০০-র বেশি কুকুরের টিকাকরণ। জলাতঙ্ক, ক্যানাইন ডিসটেম্পার-সহ একাধিক রোগের সংক্রমণ রুখতে কেন এই উদ্যোগ?

বাঘ বাঁচাতে এবার কুকুরকে ভ্যাকসিন! শুনতে কিছুটা অবাক লাগলেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছে সংক্রমণ রোধের যুক্তি। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে অবাধে ঘুরে বেড়ানো কুকুরদের টিকাকরণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৪০০-র বেশি কুকুরকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—লোকালয় থেকে জঙ্গলে যাতে প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে না পড়ে।

বক্সায় ৪০০-র বেশি কুকুরের টিকাকরণ

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের সংলগ্ন জয়ন্তী, ২৮ মাইল, ২৯ মাইল এবং সান্তালাবাড়ির মতো এলাকায় এই কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। বন দফতর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ২৪৭টি কুকুরকে কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৯৭টি কুকুরকে দেওয়া হয়েছে ‘DHPPiL’ টিকা। অর্থাৎ দুই দফায় ৪০০-র বেশি সারমেয়কে টিকাকরণের আওতায় আনা হয়েছে। বনাঞ্চলের সীমান্তবর্তী অন্যান্য এলাকাতেও ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি চালানোর কথা রয়েছে।

বাঘের জন্য কুকুরকে টিকা কেন?

প্রশ্ন উঠতেই পারে, বাঘের সুরক্ষায় কুকুরকে টিকা দেওয়ার প্রয়োজন কেন? আসলে জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় থাকা অবাধ বিচরণকারী কুকুর অনেক সময় বনাঞ্চলে ঢুকে পড়ে। কখনও তারা বন্যপ্রাণীর সংস্পর্শে আসে, আবার নিজেরাও বাঘ বা চিতাবাঘের শিকারে পরিণত হতে পারে।এই ধরনের সংস্পর্শের মাধ্যমে এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীর মধ্যে সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জলাতঙ্কের মতো রোগের ক্ষেত্রে এই আশঙ্কা গুরুত্বপূর্ণ। তাই জঙ্গলের আশপাশে থাকা কুকুরদের আগে থেকেই টিকাকরণের আওতায় এনে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

DHPPiL টিকায় কোন রোগ থেকে সুরক্ষা?

এই কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ‘DHPPiL’ টিকা একাধিক সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে কুকুরকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে ক্যানাইন ডিসটেম্পার এবং পারভোভাইরাসের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ক্যানাইন ডিসটেম্পার নিয়ে উদ্বেগের কারণও রয়েছে। বিভিন্ন দেশে বন্যপ্রাণীর মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে গবেষণা ও সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই বক্সার মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বক্সায় নতুন করে বাঘ ফেরানোর প্রস্তুতি

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন করে বাঘ আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনার আগে বনাঞ্চলের স্বাস্থ্য ও জৈব-নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।নতুন বাঘ জঙ্গলে ছাড়ার পর যাতে লোকালয় থেকে আসা কোনও সংক্রামক রোগের ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সেই কারণেই আশপাশের কুকুরদের টিকাকরণকে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বন দফতরের সঙ্গে একাধিক সংস্থার সহযোগিতা

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প এবং পশ্চিমবঙ্গ বন দফতরের তত্ত্বাবধানে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা করছে ‘SPOAR’।এছাড়াও ‘Mission Rabies’ এবং ‘Worldwide Veterinary Services’ বা WVS-এর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

লোকালয় ও জঙ্গলের মধ্যে রোগের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ শুধু জঙ্গলের ভিতরের প্রাণীদের সুরক্ষা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বনাঞ্চলের আশপাশে বসবাসকারী মানুষ ও গৃহপালিত বা অবাধে ঘুরে বেড়ানো প্রাণীর সঙ্গে বন্যপ্রাণীদের যোগাযোগও নজরে রাখা প্রয়োজন।বক্সার এই টিকাকরণ কর্মসূচি সেই বৃহত্তর ব্যবস্থারই অংশ। লোকালয়ের কুকুরদের টিকা দেওয়ার মাধ্যমে একদিকে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার চেষ্টা হচ্ছে, অন্যদিকে বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংক্রামক রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনাও কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বন্যপ্রাণীদের সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার ৪০০-র বেশি কুকুরকে টিকাকরণ করা হয়েছে। জলাতঙ্কের পাশাপাশি ক্যানাইন ডিসটেম্পার, পারভোভাইরাস-সহ একাধিক রোগ প্রতিরোধে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন টিকা। বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের পরিকল্পনার আগে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ জৈব-নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a comment