রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের পূর্ব নির্দেশ সত্ত্বেও নম্বর ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। বুধবার নতুন করে বিস্তারিত তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ মানা হয়নি, ক্ষুব্ধ বিচারপতি
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এ দিন মামলার শুনানিতে উঠে আসে, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড সংরক্ষিত পদের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করলেও সেখানে পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর বা প্রার্থীর শ্রেণি (বর্ণ) উল্লেখ করা হয়নি।
আদালত আগেই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল— প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করতে হবে। সেই নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়নি বলেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত।
কী তথ্য প্রকাশের নির্দেশ?
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নতুন তালিকায় উল্লেখ করতে হবে—
প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় কত নম্বর পেয়েছেন
তাঁরা কোন সংরক্ষিত শ্রেণিভুক্ত
সিভিক ভলান্টিয়ার ও হোম গার্ডদের জন্য সংরক্ষিত শূন্যপদের সংখ্যা
বিশেষ ছাড়প্রাপ্ত শ্রেণির আসনসংক্রান্ত পূর্ণ বিবরণ
আদালত দ্রুত এই তথ্য-সহ নতুন তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।
কোন কোন শ্রেণির মামলা?
এ দিনের শুনানিতে স্পোর্টস কোটা, সিভিক ভলান্টিয়ার, হোম গার্ড এবং বিশেষ ছাড়প্রাপ্ত শ্রেণির আবেদনকারীদের সংক্রান্ত মামলা ওঠে।
বিশেষ ছাড়প্রাপ্ত শ্রেণির মধ্যে ভূমিহীন কৃষক, প্রাক্তন নির্বাচন কর্মী প্রমুখ রয়েছেন, যাঁদের জন্য সরকারি চাকরিতে নির্দিষ্ট আসন সংরক্ষিত থাকে।
প্রার্থীদের অভিযোগ কী?
মামলাকারীদের আইনজীবীর দাবি, প্রকাশিত তালিকায় একাধিক ফাঁকফোকর রয়েছে। নম্বর বা সংরক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য না থাকায় প্রার্থীরা বুঝতে পারছেন না তাঁদের অবস্থান কী।এর আগে তথ্য জানার অধিকার আইনে (RTI) আবেদন করেও এই তথ্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানায়, নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন এমন তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
সাধারণ ক্যাটেগরিতেও মামলা বিচারাধীন
কনস্টেবল নিয়োগে সাধারণ বিভাগেও দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। সেই মামলায়ও আদালত বিস্তারিত নম্বর-সহ তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয়।তবে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য ইতিমধ্যে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছে। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সংরক্ষিত পদের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত নম্বর, শ্রেণি ও শূন্যপদের বিস্তারিত তথ্য-সহ নতুন তালিকা দ্রুত প্রকাশের নির্দেশ দিল আদালত।








