কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পরেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বাজেট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁদের অভিযোগ—এই বাজেটে বাংলা কার্যত উপেক্ষিত, আর উন্নয়নের নামে যা বলা হয়েছে, তা পুরোনো ঘোষণার পুনরাবৃত্তি মাত্র।
‘সম্পূর্ণ দিশাহীন বাজেট’: মমতার তীব্র আক্রমণ
দিল্লি সফরের আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাজেটকে একেবারে খারিজ করে দেন। তাঁর মন্তব্য, “এটা শুধু মিথ্যার ফুলঝুরি। এই বাজেটের কোনও দিশা নেই। একেবারে হাম্পটি ডাম্পটি বাজেট।” মমতার দাবি, সাধারণ মানুষের স্বার্থ এই বাজেটে সম্পূর্ণ উপেক্ষিত।
কৃষক-গরিব-যুব বিরোধী বাজেট?
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই বাজেট কৃষক, মহিলা, গরিব, যুবসমাজ ও আদিবাসীদের বিরুদ্ধে। শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ কমেছে, কৃষিক্ষেত্রে সারের উপর ভর্তুকি হ্রাস পেয়েছে বলেও দাবি তাঁর। মমতার মতে, এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়বে।
বাংলার প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন
বিধানসভা নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে বাংলার জন্য কেন্দ্র কী দিল—এই প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলার জন্য কিছুই নেই। শুধু বড় বড় কথা বলা হয়েছে।” তাঁর দাবি, ভোটের আগে বাংলাকে বঞ্চিত করাই বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল।
রেল করিডর ঘোষণায় ‘নতুনত্ব নেই’
কেন্দ্রীয় বাজেটে সুরাট-ডানকুনি ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর এবং বারাণসী-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড রেল করিডরের ঘোষণা করা হলেও, মমতার বক্তব্য—এগুলো নতুন কিছু নয়। তিনি বলেন, রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ডানকুনি-অমৃতসর করিডরের পরিকল্পনা তিনিই করেছিলেন, যা বছরের পর বছর ঝুলে রয়েছে।
রাজ্যের বিকল্প উন্নয়ন রূপরেখা
মমতা জানান, কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে না থেকে রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগে ছ’টি ইকোনমিক করিডর তৈরি করছে। ডানকুনি থেকে পুরুলিয়া এবং কল্যাণী থেকে কোচবিহার পর্যন্ত বিস্তৃত এই করিডরগুলিকে বাংলার শিল্প ও বাণিজ্যের মেরুদণ্ড হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
অভিষেকের অভিযোগ: ‘হার নিশ্চিত বলেই বিমাতৃসুলভ আচরণ’
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাজেটকে আক্রমণ করে বলেন, “বাংলায় বিজেপি হেরে যাচ্ছে বুঝেই বাংলার মানুষকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে।” তাঁর মতে, গণতন্ত্রে এই মনোভাব উল্টো ফল দেবে।
NIMHANS বিতর্ক ও ‘পুরোনো বোতলে নতুন মদ’ মন্তব্য
অসম ও ঝাড়খণ্ডে নতুন NIMHANS ইনস্টিটিউট ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অভিষেকের কটাক্ষ—বাংলাকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে। রেল করিডর প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “এটা পুরোনো বোতলে নতুন মদ।” বাজেট বক্তৃতায় একবারও বাংলার নাম না নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাজেটকে ‘দিশাহীন’ ও ‘হাম্পটি ডাম্পটি’ বলে কটাক্ষ করেন। বাংলার জন্য কোনও প্রকৃত প্রাপ্তি নেই বলেও অভিযোগ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বাংলায় বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই কেন্দ্র বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে।










