ভারতে মহিলাদের মধ্যে একসময় মৃত্যুর অন্যতম কারণ ছিল Cervical Cancer। তবে সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং টিকাকরণের ফলে এখন এই রোগ কিছুটা কমছে। তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন—প্রাথমিক লক্ষণ চিনতে পারাই বাঁচার সবচেয়ে বড় উপায়।
প্রাথমিক লক্ষণ—যা একেবারেই অবহেলা করবেন না
এই রোগকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ শুরুতে স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। তবে কিছু লক্ষণ সতর্কবার্তা দেয়—
মাসিকের মাঝখানে অস্বাভাবিক রক্তপাত
মেনোপজের পর আবার রক্তপাত
সহবাসের পর ব্যথা বা রক্তপাত
যোনি থেকে দুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক স্রাব
দীর্ঘদিন কোমর ব্যথা বা তলপেটে ভারী ভাব
এই লক্ষণগুলির কোনওটি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কেন হয় এই ক্যানসার?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই রোগের জন্য দায়ী Human Papillomavirus। এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর ধীরে ধীরে কোষে পরিবর্তন ঘটায়, যা অনেক বছর পর ক্যানসারে পরিণত হতে পারে। এই দীর্ঘ সময়টাই প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় সুযোগ।
স্ক্রিনিংই বাঁচার মূল চাবিকাঠি
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্ক্রিনিং করলে এই রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ে।
Pap Smear Test: জরায়ুমুখে অস্বাভাবিক কোষ পরিবর্তন শনাক্ত করে
HPV DNA টেস্ট: ভাইরাসের উপস্থিতি নির্ণয় করে
৩০ বছরের পর মহিলাদের নিয়মিত এই পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টিকাকরণে বড় সুরক্ষা
HPV Vaccine বর্তমানে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়। অল্প বয়সে এই টিকা নিলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
সচেতনতার বদলে যাচ্ছে চিত্র
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবহার বৃদ্ধি, দেরিতে বিয়ে—এই সামাজিক পরিবর্তনগুলিও এই রোগ কমাতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচি ও বিনামূল্যে পরীক্ষা মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়েছে।
Cervical Cancer প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনও স্পষ্ট লক্ষণ দেখায় না। তবে কিছু সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করলে বিপদ বাড়তে পারে। সময়মতো স্ক্রিনিং ও টিকাকরণেই সম্ভব প্রতিরোধ।













