৭০ বছরের ঐতিহ্য, শতবর্ষের বিশ্বাস! ফুলিয়া জোড়া বটতলায় চৈত্র সংক্রান্তি ব্রতে ভক্তদের ঢল

নদিয়ার ফুলিয়ার জোড়া বটতলায় শতবর্ষ প্রাচীন চৈত্র সংক্রান্তি ব্রত ঘিরে ভক্তদের ঢল। নারী-পুরুষ মিলিয়ে সন্ন্যাসীদের অংশগ্রহণে চলছে ঐতিহ্যবাহী আচার।

চৈত্রের শেষ লগ্নে ধর্মীয় আবহে ভরে উঠেছে নদিয়া জেলার ফুলিয়া বয়রা জোড়া বটতলা এলাকা। শতবর্ষ প্রাচীন চৈত্র সংক্রান্তি ব্রতকে কেন্দ্র করে এখানে জমেছে ভক্তদের ভিড়। প্রায় ৭০ বছরের পুরনো এই জাগ্রত মন্দিরকে ঘিরে চলছে একের পর এক আচার-অনুষ্ঠান।

ঐতিহ্যের ধারায় ভক্তির উচ্ছ্বাস

প্রতি বছরের মতো এবারও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে এই ব্রত পালন করতে ভিড় জমিয়েছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। ছোট থেকে প্রবীণ—সকলেই সন্ন্যাসী রূপে অংশ নিচ্ছেন এই ধর্মীয় আচার পালনে। পাঁচ বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে ৭০ বছরের বৃদ্ধ—সবার উপস্থিতিতে উৎসবের আবহ আরও গাঢ় হয়েছে।

নারী অংশগ্রহণে বদলাচ্ছে চিত্র

গত কয়েক বছরে এই ব্রতে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এবছর প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন সন্ন্যাসী অংশ নিয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলা। ফলে পুরনো রীতির সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন স্পষ্ট এই আচার-অনুষ্ঠানে।

কঠোর নিয়মে ব্রত পালন

চৈত্র মাসের শেষ সাত দিন আগে থেকেই শুরু হয় এই ব্রতের আচার। অনেকেই আবার পুরো এক মাস ধরে ব্রত পালন করেন। এই সময় সন্ন্যাসীরা কঠোর নিয়ম মেনে চলেন—শিব আরাধনা করেন, পাড়ায় পাড়ায় ভিক্ষা সংগ্রহ করেন এবং সেই ভিক্ষা দিয়েই মন্দিরে ভোগ নিবেদন করা হয়।

মন্দিরেই দিনরাত কাটান সন্ন্যাসীরা

ব্রত চলাকালীন সন্ন্যাসীরা নিজেদের বাড়িতে না ফিরে মন্দির প্রাঙ্গনেই অবস্থান করেন। দিন-রাত ভক্তি, সাধনা ও নিয়মের মধ্য দিয়ে কাটে তাঁদের সময়। এই নিয়মই এই ব্রতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা আজও অটুট রয়েছে।

প্রবীণদের অভিজ্ঞতা, তরুণদের উৎসাহ

এই মন্দিরে প্রায় ৪০ বছর ধরে ব্রত পালন করে আসছেন শ্যামচাঁদ বাবু, যার বর্তমান বয়স প্রায় ৭০ বছর। তাঁর মতো প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণ প্রজন্মের উৎসাহ মিলিয়ে এই প্রাচীন ব্রত আজও সমানভাবে জীবন্ত ও প্রাসঙ্গিক।

নদিয়ার ফুলিয়ার জোড়া বটতলায় শতবর্ষ প্রাচীন চৈত্র সংক্রান্তি ব্রত ঘিরে তৈরি হয়েছে ভক্তিময় পরিবেশ। প্রায় ৭০ বছরের পুরনো জাগ্রত মন্দিরে নারী-পুরুষ মিলিয়ে কয়েক ডজন সন্ন্যাসীর অংশগ্রহণে চলছে কঠোর আচার-অনুষ্ঠান।

Leave a comment