২০২৬ সালের মার্চ মাসে হোলির আবহে ঘটতে চলেছে এক বিরল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। এর ঠিক দুই সপ্তাহ আগে হয়েছে সূর্যগ্রহণ। পাশাপাশি কুম্ভ রাশিতে সূর্য, মঙ্গল, বুধ, শুক্র ও রাহুর যুগলবন্দি তৈরি করেছে শক্তিশালী পঞ্চগ্রহী যোগ। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই অবস্থান বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত বহন করছে।
দুই সপ্তাহে দুই গ্রহণ: অস্বাভাবিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ফাল্গুন অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হয়। যদিও ভারতে তা দৃশ্যমান ছিল না, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রহণটি দেখা যায়।এর ঠিক দুই সপ্তাহ পর, ৩ মার্চ ফাল্গুন পূর্ণিমায় ঘটবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। বিশেষ তাৎপর্য—এই দিনই দেশজুড়ে পালিত হবে হোলিকা দহন। ফলে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।জ্যোতিষমতে, এক পক্ষকালের মধ্যে সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ ঘটলে তা অশুভ প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিহাসে এমন পরিস্থিতির পরে বড় সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনের নজির রয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
হোলির দিন গ্রহণ: ধর্মীয় বিধিনিষেধ কী?
চন্দ্রগ্রহণের কারণে এ বছর হোলিকা দহনের সময় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেক পুরোহিতের মতে, গ্রহণের সূতক শুরু হওয়ার আগে আচার সম্পন্ন করা উচিত।সূতককালে দেবমূর্তি স্পর্শ বা পূজা নিষিদ্ধ ধরা হয়। ভক্তদের উপবাস রাখা, গ্রহণের আগে চাঁদকে অর্ঘ্য দেওয়া এবং গ্রহণ শেষে স্নান ও শুদ্ধিকরণের পর পূজা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কুম্ভে পঞ্চগ্রহী যোগ: কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র?
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ কুম্ভ রাশিতে সূর্য, মঙ্গল, বুধ, শুক্র ও রাহুর সংযোগে তৈরি হয়েছে পঞ্চগ্রহী যোগ। বিশেষ করে সূর্য-মঙ্গল-রাহুর যুগলবন্দিকে জ্যোতিষীরা শক্তিশালী ও অস্থিরতার প্রতীক হিসেবে দেখেন।২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ধনু রাশিতে বহু গ্রহের সমাবেশের পর বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী ছড়িয়ে পড়েছিল—এই উদাহরণ টেনে অনেকেই বর্তমান অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।জ্যোতিষ বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এই যোগ রাজনৈতিক সংঘাত, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অবনতি এবং অর্থনৈতিক চাপে রূপ নিতে পারে।
‘রৌদ্র’ সংবৎসরের সূচনা ও সম্ভাব্য প্রভাব
১৯ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে নতুন সংবৎসর, যার নাম ‘রৌদ্র’। অমাবস্যায় প্রতিপদ ক্ষয়ের কারণে বছরের প্রথম দিন ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়াকে শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখা হয় না।জ্যোতিষ মতে, এই অবস্থান শাসক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মতবিরোধ বাড়াতে পারে। বৃহস্পতির রাশিচক্রে অবস্থান পরিবর্তনের আগ পর্যন্ত এই অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলেই ধারণা।
সম্ভাব্য প্রভাব: সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের
গ্রহণ ও গ্রহসংযোগের এই পরিস্থিতিতে ভূমিকম্প, ঝড়, দুর্ঘটনা, স্বাস্থ্যসংকট বা রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না জ্যোতিষীরা।তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এগুলি আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা—বাস্তব পরিস্থিতি নির্ভর করে বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক নানা উপাদানের উপর। তাই অযথা আতঙ্ক নয়, সচেতন থাকাই শ্রেয়।
২০২৬ সালে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে চলেছে। হোলির দিন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, তার আগে কুম্ভ রাশিতে পঞ্চগ্রহী যোগ—এই বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অবস্থান বিশ্বরাজনীতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামাজিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি জ্যোতিষীদের। নতুন বছরের সূচনাতেই বাড়ছে উদ্বেগ।













