চতরায় কুয়ো থেকে ২৪ বছরের সন্নি যাদবের মৃতদেহ উদ্ধার, বন্ধুদের বিরুদ্ধে পরিবারের হত্যার অভিযোগ

ঝাড়খণ্ডের চতরায় কুয়ো থেকে ২৪ বছর বয়সি সন্নি যাদবের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁর বন্ধুদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে হত্যার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
চতরায় কুয়ো থেকে ২৪ বছরের সন্নি যাদবের মৃতদেহ উদ্ধার, বন্ধুদের বিরুদ্ধে পরিবারের হত্যার অভিযোগ
Photo Credit / Attribution: Google

ঝাড়খণ্ডের চতরা জেলায় কুয়ো থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের পর চতরা সদর থানা এলাকার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, বন্ধুদের ষড়যন্ত্রের জেরে সন্নি যাদবকে হত্যা করে তাঁর দেহ কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চতরা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মৃত যুবকের পরিচয় ২৪ বছর বয়সি সন্নি যাদব হিসেবে জানা গেছে। তিনি চতরা শহরের কিশনপুর মহল্লার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারে তাঁর বাবা-মা ছাড়াও দুই বোন রয়েছেন।

পরিবারের দাবি, বুধবার দুপুরে সন্নি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। বের হওয়ার সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের শীঘ্রই ফিরে আসার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। রাত প্রায় ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরপর পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাত পেরোনোর পর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পরিবার জানতে পারে যে একটি কুয়োর মধ্যে সন্নির মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কুয়ো থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের খবর দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে মানুষের ভিড় জমে যায়।

যুবক নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর মৃতদেহ উদ্ধারের খবর সামনে আসায় পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি অত্যন্ত শোকের হয়ে ওঠে।

পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে অস্বীকার করে সন্নির বন্ধুদের বিরুদ্ধে হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে সন্নিকে হত্যা করা হয়েছে এবং তাঁর মৃতদেহ কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

তবে পুলিশি তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়া এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার আগে হত্যার অভিযোগের কোনও নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি। সন্নি কীভাবে কুয়ো পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কুয়ো থেকে মৃতদেহ বের করায়। মৃতদেহ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে তাঁরা ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। পরে পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই দুখী রাম মাহতো পরিবারের সদস্যদের বোঝান এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁদের রাজি করান। এরপর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ পরিবারের সদস্যদের তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

এই ঘটনার সঙ্গে পরিবারের প্রায় ছয় মাস আগের একটি মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে সন্নির পিসিরও সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছিল।

এরপর পরিবারের আরও একজনের মৃত্যু হওয়ায় শোক আরও গভীর হয়েছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে একই পরিবারে দুটি মৃত্যুর ঘটনা পরিবারকে ধাক্কা দিয়েছে। সন্নির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে সন্নি বাড়ি থেকে বেরিয়ে শীঘ্রই ফিরে আসার কথা বলেছিলেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা ফোন করেন। ফোনে যোগাযোগ না হওয়ার পর তাঁর খোঁজ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

পরদিন কুয়ো থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সামনে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সন্নির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এবং কোন পরিস্থিতিতে তিনি কুয়ো পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।

পুলিশের তদন্তে যুবক কখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে কারা ছিলেন, শেষবার তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তাঁর মোবাইল ফোনের শেষ অবস্থান কোথায় ছিল এবং তিনি নিজে কুয়ো পর্যন্ত গিয়েছিলেন কি না অথবা কেউ তাঁর মৃতদেহ সেখানে নিয়ে গিয়েছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

তবে এই বিষয়গুলিতে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এই মামলায় ময়নাতদন্তের রিপোর্টকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শরীরে কোনও ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে অথবা মৃত্যুর কারণ ডুবে যাওয়া না হয়ে অন্য কোনও কারণ বলে জানা গেলে তদন্তের গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে।

অন্যদিকে, ময়নাতদন্তে এমন কোনও তথ্য না এলেও পুলিশ ঘটনাস্থল এবং পরিস্থিতির ভিত্তিতে তদন্ত চালাবে। আপাতত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সন্নির বন্ধুদের বিরুদ্ধে পরিবারের পক্ষ থেকে করা অভিযোগও পুলিশ তদন্ত করবে। শুধু পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয় না। তদন্তে অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে।

এর জন্য মোবাইল ফোনের কলের বিবরণ, অবস্থান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের মতো প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তদন্তে কোনও ব্যক্তির ভূমিকা সামনে এলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে পুলিশ।

ঘটনার পর কিশনপুর মহল্লা এবং আশপাশের এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সন্নির মৃত্যুর খবর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কুয়ো থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্বিগ্ন।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, কয়েক ঘণ্টা আগেও সন্নি স্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। পরদিন তাঁর মৃতদেহ কুয়ো থেকে উদ্ধার হওয়ায় তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

পরিবারে ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনায় শোক আরও গভীর হয়েছে। পিসির সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা থেকে পরিবার এখনও পুরোপুরি ঘুরে উঠতে পারেনি। এর মধ্যেই সন্নির মৃত্যু তাঁদের ফের ধাক্কা দিয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা সন্নির মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত চান এবং যদি তাঁর হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার গভীরভাবে তদন্ত করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন পাওয়া এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের কাছে আপাতত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করাই প্রধান বিষয়। এরপরই এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি কোনও অপরাধমূলক ঘটনার ফল—তা স্পষ্ট হতে পারে।

সন্নির মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর পর পরিবারের সদস্যরা রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তের পরবর্তী দিক নির্ধারণ করবে। রিপোর্টে হত্যার আশঙ্কা জোরালো হলে পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজ ও জিজ্ঞাসাবাদ বাড়াতে পারে। অন্য কোনও কারণ নিশ্চিত হলে তার ভিত্তিতেই আইনি ব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়া হবে।

এই মুহূর্তে চতরার ঘটনায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া ২৪ বছর বয়সি এক যুবকের পরদিন কুয়ো থেকে মৃতদেহ উদ্ধার, পরিবারের পক্ষ থেকে বন্ধুদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এবং ছয় মাসের মধ্যে পরিবারের দ্বিতীয় সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। তবে এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর পুলিশি তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই জানা যাবে। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a comment