চিংড়িঘাটা মোড়ে ‘অরেঞ্জ লাইন’ মেট্রো প্রকল্পের কাজ থমকে থাকার জেরে নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে। সমস্যার সমাধানে বৈঠক হলেও ফল মেলেনি। অবশেষে শুক্রবার ফের মামলাটি ওঠে কলকাতা হাইকোর্টে। এ দিন রাজ্যকে বড় নির্দেশ দিল আদালত।
বৈঠকেও মিলল না সমাধান
চিংড়িঘাটার যানজট সমস্যা মেটাতে গত ১৭ ডিসেম্বর মেট্রো রেল ভবনে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বৈঠক ডাকার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু সেই বৈঠকের পরেও কোনও রফাসূত্র বেরোয়নি।
হাইকোর্টে মুখোমুখি সওয়াল
শুক্রবার মামলাটি ওঠে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে। সেখানে মেট্রো প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সংস্থা রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)-এর আইনজীবী জানান, কলকাতা পুলিশের মতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির কোনও এক সময় ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে।
রাজ্যের পাল্টা যুক্তি
রাজ্যের আইনজীবী পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “দশকের পর দশক ধরে কাজ চলছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে RVNL-এর অসুবিধা কোথায়?” এই মন্তব্যে আদালত কক্ষে উত্তেজনা তৈরি হয়।
RVNL-এর দাবি— মাত্র তিন রাতই যথেষ্ট
RVNL-এর তরফে জানানো হয়, “মাত্র তিন দিন, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করা গেলেই কাজ শেষ করা সম্ভব।” তাদের দাবি, মাত্র ৩৬৬ মিটার রাস্তার জন্যই গোটা প্রকল্প পিছিয়ে যাচ্ছে।
হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়, জানুয়ারি মাসে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব কি না, তা আগামী সোমবার আদালতকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মামলা?
বর্তমানে নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত মেট্রো চলাচল করছে। কিন্তু চিংড়িঘাটার কাজ আটকে থাকায় বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা শুরু করা যাচ্ছে না। এই কারণেই বিষয়টি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে।
চিংড়িঘাটায় মেট্রো নির্মাণ ঘিরে দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা এখনও অমীমাংসিত। কেন্দ্র-রাজ্য-মেট্রো কর্তৃপক্ষের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় ফের কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। জানুয়ারি মাসে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব কি না, তা সোমবারের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে রাজ্যকে।











