বর্তমান সময়ে হৃদ্রোগের অন্যতম বড় কারণ কোলেস্টেরল। অনেকেই রিপোর্টে মাত্রা বেশি দেখলেই ওষুধ শুরু করেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে কি ওষুধই একমাত্র সমাধান? বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রা মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধ ছাড়াই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সেই পথই দেখালেন Shyamal Kumar Biswas।

খাদ্যতালিকায় আনুন শৃঙ্খলা
ডা. বিশ্বাসের পরামর্শ, প্রথমেই নজর দিতে হবে খাবারে। অতিরিক্ত তেল-মশলা, ভাজাভুজি, ফাস্টফুড—এসব থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। বদলে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে বেশি করে শাকসবজি, ফল, ডাল, ওটস, লাল চাল বা আটার রুটি। আঁশযুক্ত খাবার শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ও সুষম খাদ্যই হতে পারে সুস্থ হৃদ্যন্ত্রের প্রথম সুরক্ষা বলয়।

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা
শুধু ডায়েট নয়, শরীরচর্চাও সমান জরুরি। প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা দ্রুত হাঁটা, সাইক্লিং বা হালকা ব্যায়াম করলে ভাল কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ে। যারা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন, তাঁদের মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটার পরামর্শও দেন চিকিৎসক। নিয়মিত নড়াচড়া শরীরের চর্বি কমিয়ে হৃদ্রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।
অভ্যাসে আনুন সংযম ও মানসিক স্বস্তি
ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান কোলেস্টেরল বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই এই অভ্যাস ত্যাগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত যোগব্যায়াম বা প্রণায়াম শরীরকে ভারসাম্যে রাখতে সাহায্য করে। মানসিক সুস্থতা বজায় থাকলে শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতিও দ্রুত হয়।

নিয়মিত পরীক্ষা—অবহেলা নয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরে অন্তত একবার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। আগেভাগে সমস্যা ধরা পড়লে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে মাত্রা অত্যধিক হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। স্বেচ্ছায় ওষুধ বন্ধ করা কখনওই উচিত নয়।

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও ব্যস্ত জীবনযাপনে বাড়ছে কোলেস্টেরলের সমস্যা। তবে ওষুধের উপর নির্ভর না করে জীবনযাত্রায় তিনটি সহজ পরিবর্তন আনলেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব—এমনটাই জানালেন বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. শ্যামল কুমার বিশ্বাস।













