কোলেস্টেরলের ওষুধ কি একবার শুরু করলে সারাজীবন? হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে কতটা কার্যকর, জানালেন বিশেষজ্ঞ

একবার কোলেস্টেরলের ওষুধ শুরু করলে কি সারাজীবন খেতে হয়? স্ট্যাটিন কি সত্যিই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়? বিশেষজ্ঞের পরামর্শে জানুন সঠিক তথ্য ও সতর্কতা।

অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস—সব মিলিয়ে কোলেস্টেরলের সমস্যা এখন শুধু বয়স্কদের নয়, তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা LDL বেড়ে গেলে ধমনীর দেওয়ালে চর্বি জমে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। এই পরিস্থিতিতে অনেকেরই প্রশ্ন—কোলেস্টেরলের ওষুধ কি আজীবন চালিয়ে যেতে হয়?

কোলেস্টেরল কেন বিপজ্জনক?

কোলেস্টেরল আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদান হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। রক্তনালীর ভিতরে চর্বির আস্তরণ জমতে শুরু করলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি হৃদরোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাঙ্ক ফুড, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও ধূমপানের অভ্যাস খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

কখন প্রয়োজন হয় স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ?

সব রোগীকেই ওষুধ খেতে হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই ডায়েট পরিবর্তন, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন কমানো এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলেই কোলেস্টেরল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। তবে যাঁদের LDL মাত্রা অত্যধিক বা যাঁদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ দেন।

Indraprastha Apollo Hospitals-এর সিনিয়র কার্ডিওলজিস্ট Dr. Vanita Arora জানিয়েছেন, রোগীর ঝুঁকির মাত্রা বিচার করেই ওষুধের প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়।

সারাজীবন খেতে হবে কি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রশ্নের একক উত্তর নেই। যাঁদের কোলেস্টেরল তুলনামূলক কম এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে ওষুধ বন্ধ করা যেতে পারে।তবে যাঁদের আগে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা ধমনীতে ব্লকেজ হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বা আজীবন ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা বিপজ্জনক হতে পারে।

প্রতিদিন খেলেই কি হার্ট অ্যাটাক ঠেকবে?

গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ২০–২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। তবে এটি সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেয় না। যদি কেউ ধূমপান চালিয়ে যান, ব্যায়াম না করেন, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না রাখেন—তাহলে শুধুমাত্র ওষুধ যথেষ্ট নয়।

জীবনযাপনই আসল চাবিকাঠি

চিকিৎসকেরা জোর দিচ্ছেন সমন্বিত পদ্ধতির উপর। অর্থাৎ, ওষুধের পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ মানে শুধু একটি ট্যাবলেট নয়—সম্পূর্ণ জীবনধারার পরিবর্তন।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ওষুধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে একাধিক ভুল ধারণা। অনেকেই মনে করেন, একবার স্ট্যাটিন শুরু করলে সারাজীবন খেতেই হবে। আবার কেউ ভাবেন, প্রতিদিন ওষুধ খেলেই হার্ট অ্যাটাক পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবটা এতটা সরল নয়—রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বদলায়।

Leave a comment