সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অনুসারী কমল ২ লাখ, জয়পুর হামলা নিয়ে অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, নাগপুরে নিরাপত্তা জোরদার

ককরোচ জনতা পার্টির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ কমেছে। এদিকে জয়পুরে নিজের ওপর হামলার ঘটনায় আরএসএস-সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। নাগপুরে দলটির প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আবারও আলোচনায় এসেছে। একদিকে দলটির সরকারি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অনুসারীর সংখ্যা কমেছে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জয়পুরে তাঁর ওপর হওয়া হামলার ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। এদিকে নাগপুরে দলটির প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুন পর্যন্ত সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ অনুসারী ছিল, যেখানে ৭ জুন এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ। ফলে কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ২ লাখ অনুসারী কমেছে। তবে এর পরও সংগঠনটি দেশের আলোচিত ডিজিটাল আন্দোলনগুলোর মধ্যে রয়েছে।

প্রথম বড় বিক্ষোভের পর অনুসারী সংখ্যা বৃদ্ধি

দিল্লিতে ৬ জুন অনুষ্ঠিত সিজেপির প্রথম বড় বিক্ষোভের আগে দলটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ অনুসারী ছিল। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ২ কোটি ২৭ লাখে পৌঁছায়। সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাসংক্রান্ত ইস্যুতে পরিচালিত প্রচারাভিযান বিপুল সংখ্যক তরুণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে অনুসারীর সংখ্যা কমতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অনুসারীর সংখ্যার ওঠানামার পেছনে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট অপসারণ, ব্যবহারকারীদের আগ্রহের পরিবর্তন বা প্ল্যাটফর্মের প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

জয়পুর হামলা নিয়ে অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন যে জয়পুরে তাঁর ওপর হওয়া হামলার পেছনে জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল। নাগপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কেউ সরকার বা তার মতাদর্শের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে বিরোধিতা ও হামলার মুখে পড়তে হয়।

দীপকে বলেন, তাঁর সংগঠনের লক্ষ্য শিক্ষা ব্যবস্থাসংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরা এবং তারা এই প্রচারাভিযান চালিয়ে যাবেন। তিনি নিজের ওপর হামলাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে ভিন্নমত দমন করার চেষ্টা করা উচিত নয়।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন

ককরোচ জনতা পার্টি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত ইস্যুতে জাতীয় পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সংগঠনটির প্রধান দাবি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET) সংক্রান্ত বিতর্ক, কথিত প্রশ্নপত্র ফাঁস, সিবিএসই পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারকে কেন্দ্র করে।

দলটি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে। সিজেপির বক্তব্য, পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। এই দাবিকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জয়পুরের বিক্ষোভে হামলার ঘটনা

সোমবার জয়পুরের এমআই রোডে অবস্থিত শহীদ স্মারকে আয়োজিত বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অভিজিৎ দীপকে যখন সমর্থকদের কাঁধে চড়ে ভিড়ের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, তখন কয়েকজন যুবক তাঁর কাছে পৌঁছে কথিতভাবে তাঁর কলার ধরে চড় মারেন।

ঘটনার পর সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভে উপস্থিত কর্মী ও সমর্থকেরা অভিযুক্তদের ঘিরে ফেললে উত্তেজনা আরও বাড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। পরে পুলিশ অভিযুক্ত যুবকদের হেফাজতে নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অনুসারী কমল ২ লাখ, জয়পুর হামলা নিয়ে অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, নাগপুরে নিরাপত্তা জোরদার

পাঁচজন গ্রেপ্তার

ঘটনার পর জয়পুর পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গ এবং জনশৃঙ্খলা ব্যাহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানিয়েছেন যে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিজিৎ দীপকের কিছু বক্তব্য এবং সিজেপির কার্যপদ্ধতি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট সব দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, আইন তার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলবে এবং কাউকেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

জয়পুরের কর্মসূচিতে অভিজিৎ দীপকে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, যারা তাঁর দাবি অনুযায়ী পরীক্ষা ও শিক্ষাগত চাপের কারণে আত্মহত্যা করেছিলেন। তিনি উপস্থিতদের দুই মিনিট নীরবতা পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। নীরবতা পালনের পর কর্মসূচি পুনরায় শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যায়।

নাগপুরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি

জয়পুরের ঘটনার পর এখন নজর নাগপুরে সিজেপির নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচির দিকে। সংগঠনটি সংবিধান চকে বৃহৎ আকারে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক তরুণ ও শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেন।

এ কারণে শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

নাগপুর পুলিশ বিক্ষোভকে সামনে রেখে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিটকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি রয়েছে। তবে সহিংসতা, ভাঙচুর বা আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Leave a comment