কোস্ট গার্ড–শুল্ক কর্তার ভুয়ো পরিচয়ে ঘুষের ফাঁদ, আটক সুপুরি ফেরতের নামে ৩৫ লক্ষ টাকার প্রতারণা

আটক সুপুরি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোস্ট গার্ড ও শুল্ক দপ্তরের আধিকারিক সেজে ৩৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ। শেক্সপিয়র সরণি থানায় FIR, তদন্তে পুলিশ।

সরকারি আধিকারিকের নাম ভাঙিয়ে ঘুষের কারবার—এবার তারই ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হলেন তিন সুপুরি ব্যবসায়ী। আটক হওয়া সুপুরি ছাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোস্ট গার্ড ও শুল্ক দপ্তরের কর্তা পরিচয়ে ৩৫ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠল এক প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।

সমুদ্রপথে সুপুরি পাচার ও আটক

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে বড়বাজার ও বজবজ থেকে কেনা বিপুল পরিমাণ সুপুরি দু’টি মাছের ট্রলারে তোলা হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পেটুয়াঘাট থেকে ট্রলারগুলি গভীর সমুদ্রের দিকে রওনা দেয়। সেই সময় উপকূলরক্ষী বাহিনী ওই সুপুরি ‘বেআইনি’ বলে আটক করে শুল্ক দপ্তরের হাতে তুলে দেয়।

কোস্ট গার্ড–শুল্ক কর্তার ভুয়ো পরিচয়ে ঘুষের ফাঁদ, আটক সুপুরি ফেরতের নামে ৩৫ লক্ষ টাকার প্রতারণা
মৎস্যজীবীদের গ্রেপ্তার, ব্যবসায়ীদের আশ্বাস

এই ঘটনায় ২৪ জন মৎস্যজীবী গ্রেপ্তার হন। পরে ট্রলার ও মৎস্যজীবীদের মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীদের জানানো হয়, আটক সুপুরি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। এখান থেকেই শুরু হয় প্রতারণার ছক।

শুল্ক কর্তা পরিচয়ে যোগাযোগ

এরপর এক ব্যক্তি নিজেকে শুল্ক দপ্তরের আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তার মাধ্যমে আরও তিনজনের সঙ্গে আলাপ হয়, যাঁদের মধ্যে একজন নিজেকে কোস্ট গার্ডের আধিকারিক বলেও দাবি করে।

কোস্ট গার্ড–শুল্ক কর্তার ভুয়ো পরিচয়ে ঘুষের ফাঁদ, আটক সুপুরি ফেরতের নামে ৩৫ লক্ষ টাকার প্রতারণা
ঘুষের দরদাম ও টাকা লেনদেন

প্রতারকরা জানায়, শুল্ক দপ্তরের গোডাউনে সুপুরি মজুত রয়েছে এবং ৪২ লক্ষ টাকা ঘুষ দিলে তা ফেরত পাওয়া সম্ভব। দরদাম করে ঘুষের অঙ্ক নেমে আসে ৩৫ লক্ষ টাকায়। এক্সাইড মোড়ের কাছে একটি রেস্তোরাঁয় প্রথমে পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। পরে নীল আলো লাগানো একটি গাড়ির ভিতরে একটি বস্তায় ৫০ হাজার টাকার ৬০টি বান্ডিল তুলে দেওয়া হয়।

ভুয়ো নথি দিয়ে প্রতারণা

টাকার বদলে ব্যবসায়ীদের একটি শুল্ক কর্তার চিঠির ফটোকপি দেওয়া হয়। তাঁদের বলা হয়, সুপুরি একটি ট্রাকে তোলা হচ্ছে এবং শিগগিরই পৌঁছে যাবে। কিন্তু এরপর আর কোনও যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।

প্রতারকের গ্রেপ্তার, তদন্তে জট

খোঁজ নিয়ে ব্যবসায়ীরা জানতে পারেন, প্রথম যিনি যোগাযোগ করেছিলেন, তিনি আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশের হাতে আগেই জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। টাকা ও সুপুরি—কোনওটাই ফেরত না পেয়ে শেষ পর্যন্ত শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।

কোস্ট গার্ড–শুল্ক কর্তার ভুয়ো পরিচয়ে ঘুষের ফাঁদ, আটক সুপুরি ফেরতের নামে ৩৫ লক্ষ টাকার প্রতারণা
আটক হওয়া বিপুল পরিমাণ সুপুরি ফেরত দেওয়ার টোপ দিয়ে কোস্ট গার্ড ও শুল্ক দপ্তরের আধিকারিক সেজে তিন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। শেক্সপিয়র সরণি থানায় দায়ের হয়েছে প্রতারণার মামলা। ঘটনায় অন্তত পাঁচজন জড়িত বলে পুলিশের অনুমান।

Leave a comment