বিশ্বজুড়ে কোলোরেক্টাল ক্যানসার অন্যতম সাধারণ ক্যানসার এবং ক্যানসারজনিত মৃত্যুরও বড় কারণ। চিকিৎসকদের মতে, রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু সমস্যা হল, শুরুতে লক্ষণগুলো এতটাই সাধারণ হতে পারে যে অনেকেই সেগুলিকে গুরুত্ব দেন না। তাই শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখা জরুরি।
কোলন ক্যানসার কী?
কোলন বা বৃহদান্ত্র এবং রেকটামের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে কোলোরেক্টাল ক্যানসার তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে ছোট পলিপ তৈরি হয়, যা সময়ের সঙ্গে ক্যানসারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে এই রোগ বেশি বয়সীদের মধ্যে দেখা গেলেও বর্তমানে তুলনামূলক কম বয়সীদের মধ্যেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
যে লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না
মলত্যাগের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন
হঠাৎ দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাস বদলে গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
মলে রক্ত দেখা
মলের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া কখনও স্বাভাবিক নয়। এটি অর্শসহ নানা কারণেও হতে পারে, তবে কোলন ক্যানসারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া
ওষুধ খাওয়ার পরেও যদি দীর্ঘদিন ডায়রিয়া চলতে থাকে, তাহলে কারণ খুঁজে বের করতে চিকিৎসা পরীক্ষা জরুরি।
পেটে ব্যথা বা খিঁচুনি
দীর্ঘসময় ধরে পেটে ব্যথা, অস্বস্তি বা খিঁচুনি থাকলে সেটিও উপেক্ষা করা উচিত নয়।
অকারণে ওজন কমে যাওয়া
খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় পরিবর্তন না আনলেও যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তাল্পতা
বিশেষ করে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে আয়রনের ঘাটতি, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত এবং পেটের সমস্যার সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের সম্পর্ক থাকতে পারে।
৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেও বাড়ছে ঝুঁকি
সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, আগের তুলনায় কম বয়সীদের মধ্যেও কোলোরেক্টাল ক্যানসারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বয়স কম বলেই উপসর্গকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের কোনও লক্ষণ দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে দেরি না করে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা অনকোলজিস্টের পরামর্শ নিন—
মলে রক্ত
মলত্যাগের অভ্যাসে স্থায়ী পরিবর্তন
দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
বারবার পেটব্যথা
অকারণে ওজন কমে যাওয়া
অতিরিক্ত দুর্বলতা বা রক্তাল্পতার লক্ষণ
সময়মতো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা (যেমন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোলোনোস্কোপি বা অন্যান্য পরীক্ষা) করলে রোগ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।
কোলন বা কোলোরেক্টাল ক্যানসার প্রথম দিকে অনেক সময় তেমন স্পষ্ট উপসর্গ দেখায় না। তবে মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, মলে রক্ত, দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া, পেটব্যথা কিংবা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা হলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ অনেক বেশি।













