কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UDF)-এর জয়ের পর রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের মতে, দীর্ঘ আলোচনার পর এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক বৈঠকের পর কংগ্রেস আজ মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারে।
ইউডিএফ রাজ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে একাধিক দাবিদার সামনে আসায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি Mallikarjun Kharge এবং জ্যেষ্ঠ নেতা Rahul Gandhi-র মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন করেছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সংগঠনগত ভারসাম্য, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব এবং জোটসঙ্গীদের মতামত বিবেচনা করে চূড়ান্ত নাম নির্ধারণের চেষ্টা করছে।
কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে বর্তমানে তিনটি নাম প্রধানভাবে আলোচনায় রয়েছে। K. C. Venugopal, যিনি কংগ্রেসের সংগঠন বিষয়ক সাধারণ সম্পাদক এবং দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত। V. D. Satheesan, যিনি বর্তমানে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা এবং তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী প্রভাব বজায় রেখেছেন। এছাড়া রয়েছেন Ramesh Chennithala, যিনি অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত।
![]()
দলীয় সূত্রের দাবি, ইউডিএফের একাধিক শরিক দল V. D. Satheesan-এর পক্ষে মত দিয়েছে, কারণ সংগঠন ও জনসমর্থন—উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর অবস্থান শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, K. C. Venugopal-এর নাম সামনে আসার পর দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে।
এদিকে, সরকার গঠনে বিলম্বের অভিযোগ তুলে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে। বিজেপির মুখপাত্র শাহজাদ পুনাওয়ালা অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে স্পষ্টতা নেই এবং এই পরিস্থিতি রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজেপির দাবি, কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের কারণে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া প্রভাবিত হচ্ছে।
কেরলের ওয়েনাড় অঞ্চলে কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে পোস্টার লাগানো নিয়েও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ওই পোস্টারগুলিতে Rahul Gandhi এবং দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে বিলম্ব এবং আঞ্চলিক বিষয়গুলিকে উপেক্ষা করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।











