আজকের দ্রুতগতির জীবনে ক্লান্তি যেন নিত্যসঙ্গী। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনিয়মিত ঘুম, কাজের চাপ—এসবকেই সাধারণত ক্লান্তির কারণ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু সবসময় ক্লান্তির জন্য জীবনযাত্রা দায়ী নয়। অনেক ক্ষেত্রে শরীরে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতি থেকেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন বি১ বা থায়ামিনের অভাব দীর্ঘদিনের অবসাদের অন্যতম কারণ হতে পারে।
অকারণ ক্লান্তির নেপথ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে ভিটামিনের ঘাটতি
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ক্লান্তি অনুভব করা থায়ামিনের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। এই ভিটামিন শরীরে শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এর মাত্রা কমে গেলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং কাজ করার ক্ষমতাও কমে যায়।
প্রাথমিক লক্ষণ এতটাই সাধারণ যে অনেকেই গুরুত্ব দেন না
থায়ামিনের ঘাটতির প্রথম দিকের লক্ষণগুলো খুবই সাধারণ। যেমন—অকারণ ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং ঘুমের সমস্যা। অনেকেই এই লক্ষণগুলোকে কাজের চাপ বা বয়সজনিত সমস্যা বলে ধরে নেন। ফলে রোগটি দীর্ঘদিন অচিহ্নিত থেকে যায়।
শরীরে বেশি দিন মজুত থাকে না এই ভিটামিন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর সাধারণত মাত্র ২০ থেকে ৩০ দিনের মতো থায়ামিন সঞ্চয় করে রাখতে পারে। তাই খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন বা শারীরিক চাপ বাড়লেই দ্রুত এই ভিটামিনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
আধুনিক জীবনযাপনও বাড়াতে পারে ঝুঁকি
কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস থায়ামিনের চাহিদা আরও বাড়িয়ে দেয়। যেমন অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার বা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট খাওয়া, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ডাই-ইউরেটিক ওষুধ। এসব কারণে শরীর থেকে দ্রুত থায়ামিন বেরিয়ে যেতে পারে।
ঘাটতি বাড়লে দেখা দিতে পারে গুরুতর অসুখ
দীর্ঘদিন থায়ামিনের ঘাটতি চলতে থাকলে দেখা দিতে পারে বেরিবেরি নামের মারাত্মক রোগ। এটি স্নায়ুতন্ত্র এবং হৃদযন্ত্র—দুয়ের ওপরই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এর ফলে পেশি দুর্বলতা, হাত-পায়ে অবশভাব, স্নায়ুর ক্ষতি এমনকি হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
সময়মতো ধরা পড়লে সমাধান সহজ
চিকিৎসকদের মতে, শুরুতেই ধরা পড়লে থায়ামিনের ঘাটতি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনে ভিটামিন সাপ্লিমেন্টের সাহায্যে এই সমস্যা দ্রুত ঠিক হতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ মানুষ, অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তি এবং যাঁরা নিয়মিত মদ্যপান করেন তাঁদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
অনেকেই সারাক্ষণ ক্লান্তি বা অবসাদকে ব্যস্ত জীবনযাত্রার ফল বলে মনে করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অকারণ ক্লান্তি ভিটামিন বি১ বা থায়ামিনের ঘাটতির লক্ষণও হতে পারে। সময়মতো ধরা না পড়লে এটি স্নায়ুতন্ত্র ও হৃদযন্ত্রের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।













