তিস্তার বুকের উপর দাঁড়িয়ে থাকা Coronation Bridge শুধু একটি সেতু নয়, উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলের মধ্যে অন্যতম প্রধান সংযোগরেখা। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহনের যাতায়াতে চাপ বাড়ছিল এই ঐতিহাসিক সেতুর উপর। অবশেষে সেতুকে রক্ষা করতে কঠোর অবস্থান নিল প্রশাসন। এবার থেকে নির্দিষ্ট উচ্চতার বেশি ভারী যান সহজে এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।
ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক সেতু
১৯৩০-এর দশকে ব্রিটিশ আমলে তৈরি হয় Coronation Bridge। তিস্তা নদীর উপর নির্মিত এই সেতু ডুয়ার্স, কালিম্পং ও পাহাড়ি এলাকার সঙ্গে সমতলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।বহু দশক ধরে উত্তরবঙ্গের যাতায়াত ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এই সেতু। তার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও এটি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্র।
কেন বসানো হল ‘হাইট বার’?
প্রশাসন সূত্রে খবর, নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে বেশি পণ্যবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহনের অবাধ যাতায়াতের কারণে সেতুর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছিল। এর ফলে সেতুর কাঠামোগত ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছিল।শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ভারী যান চলাচলের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই ফের বসানো হয়েছে ‘হাইট বার’।
আগের হাইট বার ভাঙার পর বাড়ে উদ্বেগ
কয়েক মাস আগে পুরনো হাইট বারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ায় ভারী যানবাহনের চলাচল আবারও বেড়ে যায়। তখন থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহাসিক এই সেতুর দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য নিয়ন্ত্রিত যান চলাচল অত্যন্ত জরুরি।স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সেতুর উপর ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সাধারণ মানুষের স্বস্তি
উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে Coronation Bridge শুধুই একটি রাস্তা নয়, আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ। তাই সেতুর সুরক্ষায় প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।অনেকের মতে, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বড় বিপদের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যেত না।
উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক Coronation Bridge-এর সুরক্ষায় নতুন করে কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। অতিরিক্ত উচ্চতা ও ওজনের পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে ফের বসানো হয়েছে ‘হাইট বার’। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে সেতুর উপর অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।












