দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মন্দার পর ফের ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মকে সামনে এনে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছিল সিপিআইএম। কিন্তু ভোটের ফল বলছে, প্রচারের ঝড় সবসময় ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয় না। তবুও একাধিক কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বাম শিবির।
তরুণ মুখে ভরসা, কিন্তু ফল আশানুরূপ নয়
এই নির্বাচনে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দীপ্সিতা ধর, কলতান দাশগুপ্ত, ময়ূখ বিশ্বাসদের মতো তরুণ নেতাদের সামনে এনে নতুন বার্তা দিতে চেয়েছিল সিপিআইএম। প্রচারে তাদের উপস্থিতি নজর কাড়লেও ভোটের ফলাফলে সেই প্রভাব পুরোপুরি দেখা যায়নি। অধিকাংশ কেন্দ্রেই তারা তৃতীয় স্থানে আটকে গেছেন।
উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষীর লড়াই, কিন্তু তৃতীয় স্থান
উত্তরপাড়া কেন্দ্রে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ১১ রাউন্ড শেষে পেয়েছেন ২৩,৬২২ ভোট। কিন্তু বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে লড়াইয়ে তিনি তৃতীয় স্থানে চলে যান। এই ফলাফল স্পষ্ট করে দেয়, সংগঠন শক্তি বাড়ানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
দমদম উত্তরে দীপ্সিতার পিছিয়ে পড়া
দমদম উত্তর কেন্দ্রে দীপ্সিতা ধর ৬ রাউন্ড শেষে পেয়েছেন ১৪,৪৮৯ ভোট। বিজেপি প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও তৃণমূলও কাছাকাছি অবস্থানে। ফলে ত্রিমুখী লড়াইয়ে সিপিআইএমের জায়গা সীমিতই থেকেছে।
ময়ূখ-কলতানের প্রচার ঝড়, ব্যালটে হতাশা
দমদমে ময়ূখ বিশ্বাস এবং পানিহাটিতে কলতান দাশগুপ্ত—দুজনেই প্রচারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। কিন্তু ভোটের হিসাবে তা প্রতিফলিত হয়নি। ময়ূখ পেয়েছেন মাত্র ১২,১৬২ ভোট, আর কলতান থেমেছেন ১৪,৭২৯ ভোটে।
ডোমকলে আশার আলো, এগিয়ে মুস্তাফিজুর
সব হতাশার মাঝেও ডোমকল কেন্দ্র বামেদের জন্য স্বস্তির খবর। সিপিআইএম প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ১২,৭৬৮ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। ১১ রাউন্ড শেষে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৬৮,৭১৯—যা বামেদের বিধানসভায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ মুখদের সামনে রেখে লড়াইয়ে নামে সিপিআইএম। কিন্তু প্রত্যাশার তুলনায় ফলাফল মিশ্র। বেশিরভাগ কেন্দ্রেই পিছিয়ে থাকলেও ডোমকলে এগিয়ে থেকে খাতা খোলার আশা জিইয়ে রাখল বামেরা।











