ক্রিয়েটিনিন কমানোর উপায়: কিডনি নষ্টের আগে এই ৬ অভ্যাসে রক্তের ক্রিয়েটিনিন থাকবে নিয়ন্ত্রণে

ক্রিয়েটিনিন কমানোর উপায়: কিডনি নষ্টের আগে এই ৬ অভ্যাসে রক্তের ক্রিয়েটিনিন থাকবে নিয়ন্ত্রণে

Creatinine Level: ক্রিয়েটিনিন হল পেশির ব্যবহারে উৎপন্ন একটি বর্জ্য পদার্থ, যা কিডনি রক্ত থেকে ছেঁকে বের করে দেয়। কিন্তু রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে গেলে তা কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। চিকিৎসকদের মতে, ভুল খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত প্রোটিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ, কম জল খাওয়া—এসবই এর প্রধান কারণ। তবে কয়েকটি সহজ খাদ্য ও জীবনযাপনের অভ্যাস বদলেই রক্তের ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট বন্ধ করুন

ক্রিয়েটিন শরীরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় এবং পেশিতে শক্তি জোগায়। তবে অতিরিক্ত ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে সেটি ভেঙে ক্রিয়েটিনিনে রূপান্তরিত হয়, যা কিডনির ওপর চাপ ফেলে। ক্রীড়াবিদ বা জিমপ্রেমীদের জন্য এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।

কম প্রোটিন খান, বিশেষত রেড মিট এড়িয়ে চলুন

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত প্রোটিন, বিশেষ করে রান্না করা রেড মিট, রক্তে ক্রিয়েটিনিন বাড়িয়ে দেয়। কারণ তাপের প্রভাবে মাংসে থাকা ক্রিয়েটিন ভেঙে ক্রিয়েটিনিনে পরিণত হয়। তাই মাংস কমিয়ে সবজি, ডালের স্যুপ ও হালকা নিরামিষ খাবার বেশি রাখুন।

বেশি ফাইবার খান, ফল ও দানাশস্য রাখুন ডায়েটে

ফাইবার শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং রক্তে ক্রিয়েটিনিন কমাতে সাহায্য করে। ক্রনিক কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও গবেষণায় দেখা গেছে—ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার তাদের রক্তপরীক্ষায় উন্নতি আনে। আপেল, ওটস, ব্রকলি, গাজর নিয়মিত খাওয়া উপকারী।

পর্যাপ্ত জল খান, কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শে

ডিহাইড্রেশনের কারণে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তবে যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জল মেপে খাওয়া দরকার। চিকিৎসকের পরামর্শে দিনভর জল গ্রহণের পরিমাণ ঠিক করা সবচেয়ে নিরাপদ।

সোডিয়াম ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকুন

অতিরিক্ত নুন, আচার, ক্যানড ফুড, ফাস্ট ফুডে থাকা ফসফরাস ও সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়িয়ে কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এসব খাবার সীমিত করলে কিডনি অনেকটা সুরক্ষিত থাকে।

ব্যথার ওষুধ (NSAID) বেশি খাওয়া বিপজ্জনক

অতিরিক্ত পেইনকিলার বা NSAID ওষুধ কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস করে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ব্যথার চিকিৎসায় বিকল্প পদ্ধতি বা চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া ওষুধ সেবন না করাই শ্রেয়।

রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু কয়েকটি সহজ জীবনযাপন অভ্যাস—যেমন কম প্রোটিন খাওয়া, বেশি জল ও ফাইবার গ্রহণ—এই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a comment