ভারত স্পষ্ট করেছে যে দালাই লামার উত্তরাধিকারীর সিদ্ধান্ত কেবল তাঁদের ঐতিহ্য এবং ইচ্ছার উপর ভিত্তি করে হবে। চীনের দাবি খারিজ করে ভারত বলেছে, এই সিদ্ধান্ত অন্য কোনো দেশ বা সংস্থার অধিকার নয়।
নয়াদিল্লি: ভারত সরকার চীনকে দালাই লামার উত্তরাধিকারীর বিষয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন যে, দালাই লামার উত্তরাধিকারীর সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং স্বয়ং দালাই লামার ইচ্ছার ভিত্তিতে নেওয়া হবে। তিনি চীনের এই দাবিকে খারিজ করেছেন যে, উত্তরাধিকারীকে তখনই স্বীকৃতি দেওয়া হবে যখন চীন সরকার এর অনুমোদন দেবে। এই বিবৃতি ভারতের সুস্পষ্ট অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
দালাই লামার পুনর্জন্ম এবং ঐতিহ্যের গুরুত্ব
![]()
দালাই লামা, তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের সর্বোচ্চ গুরু হিসেবে বিবেচিত হন এবং তাঁর অনুগামীরা বিশ্বাস করেন যে প্রত্যেক দালাই লামার পুনর্জন্ম হয়। এই পুনর্জন্ম বৌদ্ধ ঐতিহ্যের অধীনেই নির্ধারিত হয়। দালাই লামা নিজেই পরিষ্কার করেছেন যে তাঁর উত্তরাধিকারীকে স্বীকৃতি দেওয়ার একমাত্র অনুমোদিত সংস্থা হল তাঁর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান 'গদেন ফোড্রাং ট্রাস্ট'। এই ট্রাস্ট দালাই লামার প্রথাগত এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণ করে।
চীনের হস্তক্ষেপের উপর ভারতের দ্ব্যর্থহীন জবাব
চীনের পক্ষ থেকে বারবার এই দাবি করা হয়েছে যে, দালাই লামার উত্তরাধিকারীকে তখনই স্বীকৃতি দেওয়া হবে যখন চীন সরকারের অনুমতি পাওয়া যাবে। এর উপর ভারত সরকার কেবল আপত্তিই জানায়নি, বরং এটিকে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেছে। কিরেন রিজিজু স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, কোনো বহিরাগত শক্তি এটা স্থির করতে পারে না যে দালাই লামার পরবর্তী অবতার কে হবেন। এটি কেবল দালাই লামা এবং তাঁর ঐতিহ্যের অধিকার।
কিরেন রিজিজু কী বলেছেন
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন যে, দালাই লামা কেবল বৌদ্ধ অনুসারীদের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্য একটি আধ্যাত্মিক প্রতীক। তাঁর উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করা কোনো সরকারের বিষয় নয়, বরং এটি ধর্মীয় ঐতিহ্যের বিষয়। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, ভারতের পক্ষ থেকে দালাই লামার শিক্ষা ও বিশ্বাসকে পূর্ণ সম্মান জানানো হয় এবং তাঁর ধর্মীয় স্বাধীনতার রক্ষা করা হবে।
![]()
ভারতে বৌদ্ধ অনুসারীদের আস্থা
ভারতে লক্ষ লক্ষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বাস করেন, যাঁরা দালাই লামাকে তাঁদের আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে মানেন। এই অনুসারীরা বিশ্বাস করেন যে দালাই লামার পরবর্তী জন্ম বা উত্তরাধিকারী কেবল প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হতে পারে। চীনের এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা তাঁদের বিশ্বাস এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন।
ধর্মশালায় হবে এক বিশাল আয়োজন
দালাই লামার ৯০তম জন্মদিন ৬ জুলাই পালিত হবে। এই উপলক্ষে হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় একটি বিশাল অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং রাজীব রঞ্জন সিং ওরফে লাল্লন সিং অংশ নেবেন। ধর্মশালা, যেখানে দালাই লামা বহু বছর ধরে বসবাস করছেন, তিব্বতি সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।








