শরতের নীল আকাশ, পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য আর ঐতিহ্যবাহী ছোট্ট রেলগাড়িতে চড়ার রোমাঞ্চ—সব মিলিয়ে পুজোর ছুটিতে পর্যটকদের কাছে দার্জিলিং টয় ট্রেন ছিল অন্যতম আকর্ষণ। বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েতে পর্যটকদের ভিড়ের জেরে মাত্র তিন সপ্তাহেই বিপুল রাজস্ব এসেছে রেলের ঘরে। যাত্রীসংখ্যা ও আয়ের পরিসংখ্যান পাহাড়ি পর্যটনে এই ঐতিহ্যবাহী রেল পরিষেবার গুরুত্ব আরও একবার তুলে ধরেছে।
২১ দিনে টয় ট্রেনে সফর ১২ হাজার পর্যটকের
দুর্গাপুজোর ছুটি মানেই অনেকের কাছে পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা। আর দার্জিলিং ভ্রমণে টয় ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে বরাবরই বিশেষ আকর্ষণের। এবারের পুজোর মরশুমেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।রেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১২ হাজার যাত্রী দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের পরিষেবা নিয়েছেন। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রেলপথ ধরে চলতে চলতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার টানেই বহু পর্যটক এই ঐতিহ্যবাহী ট্রেনকে বেছে নিয়েছেন।
মাত্র তিন সপ্তাহে রেলের আয় ১.৪১ কোটি টাকার বেশি
যাত্রীসংখ্যার পাশাপাশি আয়ের নিরিখেও এবারের পুজোর মরশুমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। মাত্র ২১ দিনে এই পরিষেবা থেকে রেলের মোট আয় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লক্ষ ২৩ হাজার ১০০ টাকা।পর্যটকদের বিপুল উপস্থিতি এবং টয় ট্রেনের জনপ্রিয়তার প্রতিফলন এই পরিসংখ্যানে স্পষ্ট। উৎসবের ছুটিতে পাহাড়মুখী মানুষের আগ্রহ রেল পরিষেবার রাজস্ব বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
কেন পর্যটকদের কাছে এত জনপ্রিয় দার্জিলিং টয় ট্রেন?
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং পাহাড় ভ্রমণের একটি স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতা। পাহাড়ি জনপদ, সবুজ প্রকৃতি, আঁকাবাঁকা পথ এবং ঐতিহ্যবাহী রেলগাড়ির নস্টালজিয়া—সব মিলিয়ে এই যাত্রা পর্যটকদের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করে।বাষ্পচালিত ও ডিজেলচালিত ঐতিহ্যবাহী ট্রেনে সফরের সুযোগ দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া এই রেলপথের ঐতিহাসিক গুরুত্বও পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ায়।
পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ পরিষেবায় জোর
পুজোর মরশুমে পর্যটকদের কাছে টয় ট্রেনের আকর্ষণ বাড়াতে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের বিভিন্ন বিশেষ পর্যটন পরিষেবাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।পর্যটকদের এই সাড়া পাহাড়ি পর্যটনের ক্ষেত্রে টয় ট্রেনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। আগামী দিনেও পরিষেবার মান উন্নত করে এই জনপ্রিয়তা ধরে রাখাই রেল কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য।
পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনে চড়ার উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। রেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েতে সফর করেছেন মোট ১২ হাজার যাত্রী। মাত্র ২১ দিনে এই পরিষেবা থেকে রেলের আয় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লক্ষ ২৩ হাজার ১০০ টাকা। পর্যটকদের এই বিপুল সাড়া ফের প্রমাণ করল, পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগের অন্যতম আকর্ষণ টয় ট্রেন।











