সাফল্য সবসময় দ্রুত ধরা দেয় না। কখনও কখনও একটি স্বপ্ন বাস্তব হতে সময় লাগে বছরের পর বছর। গায়িকা দীপালি সহায়ের জীবন যেন তারই উদাহরণ। ইন্ডিয়ান আইডলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলেও, প্রায় দুই দশক পরে একটি গানই বদলে দিয়েছে তাঁর কেরিয়ারের মোড়। ‘তেরে পাস ম্যায়’ এখন শ্রোতাদের অন্যতম পছন্দের গান।
রিয়েলিটি শো থেকে শুরু হয়েছিল পথচলা
বিহারের বাসিন্দা দীপালি সহায় প্রথমবার আলোচনায় আসেন জনপ্রিয় গানের প্রতিযোগিতা ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এ অংশ নেওয়ার মাধ্যমে। যদিও তিনি শিরোপা জিততে পারেননি, তবু তাঁর কণ্ঠস্বর বিচারকদের নজর কেড়েছিল। সেই সময়ই অনেকেই তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
‘তেরে পাস ম্যায়’-এ মিলল বড় সাফল্য
সম্প্রতি ‘ম্যায় বাপাস আয়ুঙ্গা’ ছবির ‘তেরে পাস ম্যায়’ গানটি প্রকাশের পরই বদলে যায় পরিস্থিতি। গানটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে শুরু করে। অসংখ্য শর্ট ভিডিও ও রিলেও এই গান ব্যবহার হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়।
রহমানের সুরে নতুন পরিচয়
অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানের সুর এবং ইরশাদ কামিলের লেখা গানের কথার সঙ্গে দীপালির কণ্ঠ শ্রোতাদের মন জয় করেছে। সঙ্গীতপ্রেমীদের মতে, তাঁর কণ্ঠে রয়েছে এক অন্যরকম আবেগ, যা গানটিকে আরও গভীর করে তুলেছে।
এক বার্তাতেই খুলে যায় নতুন দরজা
দীপালির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন এ আর রহমানের টিম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। ইনস্টাগ্রামে পাওয়া সেই বার্তার পর তিনি চেন্নাইয়ে গিয়ে গানটির রেকর্ডিং করেন। পরবর্তীতে রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎও তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
ধৈর্য আর অধ্যবসায়ের সাফল্যের গল্প
দীর্ঘ ১৯ বছরের অপেক্ষা, নিরলস অনুশীলন এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস—এই তিনের সমন্বয়েই আজকের সাফল্য অর্জন করেছেন দীপালি সহায়। অনেকেই তাঁর এই যাত্রাকে নতুন শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
একসময় ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাঁকে। তবে হার মানেননি দীপালি সহায়। দীর্ঘ ১৯ বছরের অপেক্ষার পর এ আর রহমানের সুরে গাওয়া ‘তেরে পাস ম্যায়’ গানটি তাঁকে এনে দিয়েছে নতুন পরিচিতি। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মিউজিক প্ল্যাটফর্ম—সব জায়গাতেই এখন এই গান নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।








